মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ : বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠি মুসলমানদের দুটি ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। যা মহান আল্লাহ্ তা‘আলা মুসলমানদের প্রতি রহমত স্বরুপ অনাবিল আনন্দময় উৎসব হিসাবে দান করেছেন। বস্তুত আল্লাহর রাসূল (ছা.) মদীনা হিজরতের অব্যবহিত পরেই ঈদুল ফিতর পালনের সূচনা হয়। তখন মদীনায় শরতের পূর্নিমায় ‘নওরোয়’ এবং বসন্তের পূর্নিমায় ‘মেহেরজান’ নামক দুটি উৎসব পালিত হতো যা ছিল ধনী দরিদ্রের ব্যবধানে একটি কুরুচিপূর্ন উৎসব। এ সময় সাহাবীগণ রাসূল (ছা.) এর নিকট উক্ত উৎসব দুটি পালন করবে কি মর্মে জানতে চাইলে রাসূল (ছা.) খাণিকক্ষণ অপেক্ষা করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছা.) বলেন, মহান আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ দুটি উৎসব দিবস দান করেছেন। যা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং. : ১১৩৪)। বস্তুত ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা কেবল দুটি উৎসবই নয় বরং দিবস দুটি মহান আল্লাহ তা‘আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, পরম স্রষ্ঠাকে ¯œরণ এবং ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি শালীন আনন্দ, সাজসজ্জা ও পানাহারের এক সুনির্মল ব্যবস্থা। কিন্তু দিবস দুটিকে ঘিরে ছোয়াব মনে করে আমরা এমন কিছু কাজ করি যা পবিত্র কুরআন কারীম এবং সহীহ হাদীসে কোথায় খুজেঁ পাওয়া যায় না। এমন কিছু বিষয় নিয়ে নিন্মে আলোচনা করা হলো।
ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে ‘ঈদ মোবারক’ বলা :
আমরা ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে পরস্পরকে ‘ঈদ মোবারক’ বলি। অথচ এটি নিষিদ্ধ বা মাকরুহ না হলেও এটি কোন সুন্নাত নয় বলে জানিয়েছেন ড. জাকির নায়েক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ঈদের দিন আল্লাহর রাসূল (ছা.) ও সাহাবীগণ একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’। এ সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, যুবাইর ইবনে নফীর থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) এর সময় সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’। অর্থ আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন (ফাতহুল বারী শরহু সহীহিল বুখারী, হাদীস : ৬/২৩৯।) সুতরাং এটাই হচ্ছে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর সঠিক নিয়ম।
ঈদের ছালাতের পরে ‘কোলাকোলি’ করা :
ঈদের ছালাত আদায়ের পরপরই অপরিহার্য এবং আবশ্যক হিসাবে আমরা যে কাজটি করে থাকি তা হলো একে অপরের সাথে কোলাকোলি করা। সফর থেকে এসে কিংবা দীর্ঘ দিনের ব্যবধানে পরিচিত কোন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত হলে আমরা মুয়ানাকা বা কোলাকোলি করতেই পারি। কিন্তু ঈদের ছালাতের পর অপরিহার্যভাবে কোলাকোলি করাকে সুস্পষ্টভাবে বিদ‘আত বলেছেন শায়খ মতিউর রহমান মাদানী২। উপরন্তু মুয়ানাকা বা কোলাকোলি করা সম্পর্কে যত সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাতে ঈদের দিন মুয়ানাকা করা সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণিত হয়নি।
ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের দিন নির্ধারণ করা :
ঈদের ছালাত আদায় পরপরই ও সারা দিন ব্যাপি যে আমলটি ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায় তাহলো পরিবারের সকলে মিলে বা দলগতভাবে কবর জিয়ারত করা। কবর জিয়ারত করা জায়েয এবং সুন্নাত। রাসূল (ছা.) এ ব্যাপারে আমাদের উৎসাহ প্রদান করেছেন। হাদিসে এসেছে, বুরাইদা আসলামী মহানবী (ছা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তোমাদের করব জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমাকে আমার মাতার কবর জিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা তোমাদের মৃতদের কবর জিয়ারত কর। কেননা তা তোমাদের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং. : ১০৭)। কিন্তু ঈদের দিনকেই কবর জিয়ারতের জন্য সুনিদিষ্ট করে নেয়াকে সুস্পষ্টভাবেই ঈদের সুন্নাত বা আমল নয় মর্মে উল্লেখ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি ঈদে বা অনত্র বাড়ীতে এসেছেন। তার অবসর আছে মর্মে ঈদের কোন আমল নয় ভেবে তিনি কবর জিয়ারত করতেই পারেন। কিন্তু এ ধারণা আমাদের পরিস্কার করে নেয়া আবশ্যক যে ঈদের দিনের করনীয় বা আমলের মধ্যে মৃতের জন্য কবর জিয়ারত নেই।
যে কাজটি ইসলামের অংশ নয় ছোয়াব মনে করে তা করা থেকে বিরত থাকতে মহান আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তৌফিক দান করুন। কেননা এ সম্পর্কে আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের শরীআতে এমন কিছুর নবউদ্ভাবন করল, যে ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা নেই, তা পরিতাজ্য, (ছহীহ বুখারী, হাদীস নং. : ২৬৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং. : ১৭১৮)।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply