মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ : বছরের শ্রেষ্ঠ দিন আরাফার দিন। বছরের শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদরের রাত। ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ্ তাআলা আমাদের জন্য সপ্তাহের এমন একটি দিন দান করেছেন যেদিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যে দিনটি আল্লাহ্ তাআলার নিকট অতি মর্যাদার। সেই দিনটি হলো জুমু‘আর দিন বা শুক্রবার (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং. : ১০৮৪)১। অথচ এই দিনটিকে নিয়ে এমন কিছু আমল বা তার ফজিলত বর্ণনা করা হয় যার অস্তিত্ব সহিহ হাদীস থেকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন প্রচলিত জাল হাদীসসমূহ নি¤েœ উল্লেখ করা হলো।
শুক্রবার নিয়ে জাল হাদীস :
ক. ১০ মহরম শুক্রবার কিয়ামত সংগঠিত হবে :
অনেকেই বলে থাকেন ও ব্যাপক প্রচারিত যে, ১০ মহরম কিয়ামত সংগঠিত হবে এবং সেই দিনটি হবে শুক্রবার। অথচ ১০ মহরম যে কিয়ামত সংগঠিত হবে এমর্মে কোন সহিহ হাদীস খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং যে বর্ণনায় আশুরার দিন কিয়ামত সংগঠিত হবার কথা বলা হয়েছে, ইসলামী স্কলারগণ তা ভিত্তিহীন ও জাল বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লামা আবুল ফরজ ইবনুল জাওযি বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে মওযু (দূর্বল) বর্ণনা’। হাফেয সুয়ূতি (রহ.) এবং আল্লামা ইবনুল আররাক (রা.) ও উক্ত মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন (কিতাবুল মওযুআত, ২/২০২, আল লাআলিল মাসনুআ, ২/১০৯, তানযিহুশ শরিআতিল মরফুআ, ২/১৪৯) ২।
সুতরাং শুক্রবার কিয়ামত সংগঠিত হবে মর্মে সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত হলেও সে দিনটি যে ১০ মহরম বা আশুরার দিন হবে তা ইসলামী গবেষকদের মতে ভিত্তিহীন।
খ. শুক্রবার ইয়াসীন সূরা পাঠে ক্ষমা :
শুক্রবারের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে অনেকেই এ হাদীসটি উদৃত করেন যে, ‘যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিনে তার পিতা-মাতার জন্য অথবা একজনের জন্য সূরা ইয়াসীন পড়বে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। মূলত হাদীসটি জাল (জামে‘উছ ছাগীর, হা/৫৬০৬)৩।
গ. ৮০ বার দরূদ পাঠে ৮০ বছরের গুনা মাপ :
শুক্রবার ‘জুমু‘আর দিন ও জুমু‘আর রাতে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা’ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে (আবু দাউদ, হাদীস নং. : ১০৪৭)। কিন্তু শুক্রবার বিশেষকরে আছরের ছালাতের পর একটি দরূদ পাঠের কথা বিশেষভাবে শোনা যায়। ‘হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন আসরের নামাজের পর না উঠে ওই স্থানে বসে ৮০ বার দরূদটি পড়বে তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে।’ বস্তুত হাদীসটি জাল যা প্রমান করেছেন আল্লাম সাখায়ি, নাসিরুদ্দিন আলবানী৪। এছাড়াও উক্ত হাদীস সম্পর্কে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন যে, এটি নবী (ছা.) এর কোন হাদীস নয়৫। এবং ড. মুযাফফর বিন মুহসিন এর মতে এটি সম্পূর্ণ জাল হাদীস।৬
মহান আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সঠিকটি জানার এবং তদনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply