সবুজ দাস : ফরিদপুর শহরের পিয়ারলেস হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনিস্ট সেন্টার চালানোর মত সক্ষমতা নেই বলে মতামত দিয়েছে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সাথে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক মিঠুন দাস (৩০) ও আছাদুজ্জামান (৩৫) কে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। ২৬ শে জানুয়ারী বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতলে মোবালই কোর্ট পরিচালোনা কালে ব্যাপক অনিয়ম ও চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার এক মহোৎসব খুঁজে পান জেলা সিভিল সার্জন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট।
মোবাইল কোর্ট সুত্রে জানা যায় ১০ বেডের হাসপাতালের অনুমোদন নিয়ে ২০ বেডের হাসপাতাল পরিচালোনা করে আসছিল উক্ত প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও হাসপাতালটির লাইসেন্স ২০১৯ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা থাকলেও পরবর্তিতে আর নবায়ন করা হয়নি। ১০ বেডের হাপাতালে ৩ চিকিৎসক ও ৬ জন ডিপ্লোমাধারী নার্স কর্মরত থাকার কথা থাকলেও অভিযান চলা কালে শুধু মাত্র ১ জন নার্সকেই পাওয়া যায়। তবে তার ডিপ্লোমার সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি। এ ছাড়াও অপারেশন থিয়েটার এর মান অত্যন্ত নি¤œমানের এবং ওটিতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেই। ওয়ার্ড, প্যাথলোজি অত্যন্ত নোংরা। কোন রেডিওগ্রাফার ছাড়াই করা হয় এক্সরে।
ইহা ছাড়াও ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন যে দালালের খপ্পরে পরে আমরা এই হাসপতালে এসেছি এবং পরবর্তিতে জানতে পারি আমাদের কাছ থেকে অন্যান্য হাসপাতালের চেয়ে অনেক বেশি পরিমান অর্থ আদায় করেছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালোনা শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন হাসপাতালের নানান অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনার কারনে মালিকদ্বয়কে ৭ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, ইতিপুর্বে দুইবার এ হাসপাতালে অভিযান পরিচালোনা করে তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনা পেয়ে তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল এবং সংশোধনের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটার তোয়াক্কা না করে পুর্বের মতই হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালোনা করে আসছিল। পরবর্তিতে কোন ধরনের অনিয়ম পেলে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগে উক্ত হাসাপাতালে হাসনা নামে একজন এপেন্ডিসাইটিস রোগীর অপারেশন করার সময় তার মলদ্বারের নাড়ী কেটে ফেলেন চিকিৎসক। বর্তমানে ঐ রোগী ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে মূমুর্ষ অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনা বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরেই নড়েচরে বসেন ফরিদপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply