মানিক দাস : ফরিদপুর জেলা পুলিশের গত ২৪ ঘন্টার কার্যক্রম প্রকাশ করেছে। বিকেলে জেলা পুলিশ প্রদত্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় ফরিদপুর জেলা পুলিশ কর্তৃক গণধর্ষণের এজাহার নামীয় ০৫ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ০১ জন ওয়ারেন্টের আসামী গ্রেফতার করা হয়।
সালথা থানা এলাকার শারমিন আক্তার রুনা(২৭), পিতা- ফজলু মৃধা, মাতা-রাহেলা বেগম, সাং-গোপালিয়া, থানা-সালথা, জেলা-ফরিদপুর ২৬/৮/২০২১ খ্রিঃ থানায় হাজির হয়ে আসামী ১। হোসাইন শেখ (২০), পিতা- চুন্নু শেখ, ২। আকিব শেখ (২০), পিতা- মফজেল শেখ, ৩। আমিনুর মোল্যা (২৪), পিতা- আবু মোল্যা, ৪। হোসেন মোল্যা (২০), পিতা- জয়নাল মোল্যা, ৫। রেজাউল মোল্যা(৩৫), পিতা- মৃত মান্নান মোল্যা, ৬। জাকির মোল্যা (২১), পিতা- রশিদ মোল্যা, ৭। রবিউল ফকির (২০), পিতা- সেমেল ফকির, ৮। সিরাজুল মোল্যা(২০), পিতা- আবজেল মোল্যা, ৯। মাফিজুর মোল্যা(৩৮), পিতা- মৃত রস্তুম মোল্যা, ১০। আশিক(১৪), পিতা- আতিক ফকির, ১১। এনামুল (২০), পিতা- আলম শেখ, সর্বসাং-মাঠ সালথা, থানা-সালথা, জেলা-ফরিদপুরদের বিরুদ্ধে
এজাহার দায়ের করেন যে, ১ নং আসামী হোসাইন শেখ এর সহিত মোবাইলে আলাপচারিতায় মাধ্যমে বাদীর সাথে প্রেম সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে আসামী হোসাইন শেখ বাদীকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়। গত ১৯/৮/২০২১ খ্রিষ্টাব্দ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা দিকে আসামী হোসাইন শেখ বাদীকে মোবাইলে ফোন করে মাঠ সালথা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে আসতে বলে। আসামী হোসাইন শেখ বাদীকে বিয়ে করার কথা বলে অপর আসামী এনামুল শেখ এর মাঠ সালথার বাড়ীতে নিয়ে এবং একটি পুরাতন ঘরের মেঝেতে মাটির উপর শুয়ায়ে রাত ০৮.০০ ঘটিকার সময় ধর্ষন করে।
এরপর আসামী হোসাইন শেখ বাদীকে তার বাড়ীতে নেয়ার কথা বলে জনৈক হাজী মোয়াজ্জেম হোসেন এর পুকুর পাড়ে বরই বাগানের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর উল্লেখিত ২ হতে ১১ নং আসামীরা রাত অনুমান ০৯.০০ ঘটিকা হতে রাত ১২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত বাদীকে পর্যায়ক্রমে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করে। আসামীরা বাদীকে ঘটনার বিষয়ে কাউকে না জানানোর জন্য বলে এবং আসামী হোসাইন শেখ ও আমিনুর পাকা রাস্তা পর্যন্ত বাদীকে আগায়ে দেয়। বাদী মানসম্মানের ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে।
পরবর্তীতে গত ২২/৮/২০২১ ইং তারিখ রবিবার বিকাল অনুমান ০৫.০০ ঘটিকার সময় আসামী হোসাইন শেখ বাদীকে ফোন দেয় এবং ভুল স্বীকার করে ঐদিনেই বিয়ে করবে বলে তাকে সালথা বাজারে আসার জন্য বলে। বাদী সরল বিশ্বাসে সালথা বাজারে আসলে আসামী হোসাইন শেখ তাকে পায়ে হাটায়ে মদনদিয়া শৈলডুবি গ্রামের ডোবায় নিয়ে নৌকায় উঠায় এবং আসামী আমিনুর, আশিক ও হোসেনসহ নৌকা নিয়ে ঘুরার কথা বলে ডোবার মাঝখানে নিয়ে রাত ০৭.৩০ ঘটিকার সময় বাদীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। বাদী চিৎকার করলে আসামীরা তাকে নৌকায় রেখে পানির মধ্যে দিয়ে পলায়ে যায়।
এরপর এলাকার লোকজন বাদীকে বাড়ীতে যেতে সাহায্য করে। উক্ত ঘটনায় শারমিন আক্তার রুনা বাদী হয়ে সালথা থানায় এজাহার দায়ের করলে সালথা থানার মামলা নং-১৩, তারিখ-২৬/৮/২০২১ খ্রিঃ ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৩) রুজু করা হয়। উক্ত ঘটনায় জড়িত এজাহার নামীয় ০৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সালথা জিআর ১৪/১২ এর সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামী মোঃ ফারুক মোল্যা (৪৬), পিতা- মৃত- সামসুদ্দিন মোল্যা সাং- পুরুরা, থানা- সালথা, জেলা-ফরিদপুরকে গ্রেফতার করা হয়।
উক্ত ধৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ফরিদপুর ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক রুজু কৃত মামলার সংখ্যা – ০৮ টি, নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা- ৩১ টি, আদায় কৃত জরমিানার পরিমান- ৫৬,১০০/- টাকা, আটক সংখ্যা- মোটর সাইকেল-০২ টি, ট্রাক-০১ টি, পিকআপ- ০১ টি। ফরিদপুর জেলা পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম, অভিযান পরিচালনায় অর্জন ও সেবাপ্রাপ্তির খবরা-খবর জনগণের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা পুলিশের প্রতি ইউনিট সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply