1. faridpursamacharbd@gmail.com : Apurba Kumar Das : Apurba Kumar Das
  2. faridpursamachar@gmail.com : Apurba kumar Das : Apurba kumar Das
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ:
ফরিদপুর সমাচার নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম । ভয়াল করোনার এই মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, সুস্থ থাকুন। বাস্তব সমাচার , আমাদের অঙ্গিকার ।। 

ফরিদপুর ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনে শতকরা ত্রিশ ভাগ খামারীও নেই

  • বর্তমান সময়: রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১
  • ২৫৭ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুর ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনে শতকরা ত্রিশ ভাগ খামারীও নেই
ফরিদপুর ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনে শতকরা ত্রিশ ভাগ খামারীও নেই

ফরিদপুর ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনে শতকরা ত্রিশ ভাগ খামারীও নেই

রবিউল হাসান রাজিব,ফরিদপুর সংবাদদাতা: ১৯ আগস্ট’২১ বৃহস্পতিবার ফরিদপুরে গরুর প্রকৃত খামারীদের বাদ দিয়ে ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনের কমিটি গঠন করায় প্রকৃত খামারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সুবিধা হতে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট লিখিত অভিযােগ দাখিল করা হয়েছে।

জানা গেছে, ফরিদপুরের বর্ধিত পৌর এলাকা তথা সদর থানায় ছােটবড় মিলিয়ে প্রায় ১শ’টির মতাে গরুর খামার রয়েছে। আর সারা জেলায় এর সংখ্যা চারশ’রও বেশি। তবে ডেইরী ফারমার্স অ্যাসেসিয়েশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সদরে ৬০টি এবং পুরাে জেলায় সাড়ে ৩শ’ গরুর খামার রয়েছে।

খামারীদের অভিযােগ, প্রকৃত খামারীদের না জানিয়ে ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি একজন ঠিকাদার। তিনি নিজেই প্রকৃত খামারী নন। অন্য পদগুলােতেও যারা আছেন তারাও প্রধানত গরুর খামারী নন। সংগঠনের কােন কার্যালয়ই নেই। প্রকৃত খামারী না হয়েও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সুপারিশে জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ ব্রাক্ষ্মসমাজ সড়কের দক্ষিণপূর্ব মােড়ে প্রায় দশ লাখ টাকা সমমূল্যের একটি দােকান হাতিয়ে নিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি। করােনাকালে সরকারের ন্যায্য মূল্যের দুধ-ডিম বিক্রির কর্মসূচীও এদের কারণে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। ওই কর্মসূচীর টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে সুযােগসন্ধানীরা।

প্রাপ্ত অভিযােগে জানা গেছে, ফরিদপুর ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনের জেলা ও সদর থানার কােন অনুমােদিত কমিটি নেই। কােন প্রকার মিটিং কিংবা রেজুলশন না করেই একটি মহল এই কাগজে কমিটি করে নানা দুর্নীতি চালাচ্ছে। শত শত গরু নিয়ে দীর্ঘদিন গরুর খামার করছেন এমন অনেক খামারীকেও এই সদস্য করা হয়নি। এই অ্যাসোসিয়েশনে ফরিদপুরের শতকরা ত্রিশ ভাগ গাে-খামারীও নেই।

এসব খামারীরা অভিযােগ করছেন, ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনের নামে গঠিত এই কমিটি চলমান করােনাকালেও তাদের কােন কাজে আসেনি। বরং লকডাউনে রমজানের সময় খামারীদের ধ্বংসের কবল হতে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সাধারণ জনগণের সুবিধার্থে ন্যায্যমূল্য যেই দুধ ও ডিম বিক্রির ভ্রাম্যমান কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছিল সেটি নিয়েও চলেছে চরম দুর্নীতি।

একদিকে দুধ বিক্রি করতে না পেরে খামারীদের দুধ নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে এই সময় এই মহলটি সামান্য সময়ের জন্য দু’একটি ভ্রাম্যমান গাড়িতে দুধ, ডিম বিক্রি করা দেখিয়ে সরকারের প্রণােদনা হাতিয়ে নিয়েছে। করােনাকালে গাে-খামারী ও জনস্বার্থে সরকারের গৃহিত একটি দারুন উদ্যােগের সুফল এইসকল প্রকৃত খামারীরা পায়নি।

ফরিদপুরের অন্যতম বৃহৎ গরু ও মুরগির খামারী মুসলিম মিশনের ম্যানেজার মাে. শহিদুজ্জামান বলেন, ফরিদপুরের মধ্যে মুসলিম মিশনের গরু ও পােল্ট্রি খামারটি অন্যতম বড় খামার। অথচ আমরাই করােনাকালে ন্যায্য মূল্যে দুধ, ডিম বিক্রির সুফল পাইনি। যারা এই কাজ বাস্তবায়নে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কাছে খামারীদের তালিকা দিয়েছে তারাই এই দুর্নীতি করেছে।

প্রতিদিন সরকার পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়েছে একজন খামারীকে ঘুরে ঘুরে ন্যায্য মূল্যে দুধ, ডিম বিক্রির জন্য। কিন্তু দু’একটি স্পটে নিজেদের খামারের দুধ, ডিম নিয়ে তারা বিক্রি করেছে। অন্য খামারীরা জানতেও পারেনি।

মােহাম্মদ আলী নামে তুলাগ্রামের আরেকজন খামারী বলেন, ফরিদপুরের এই ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনে জেলার শতকরা সত্তর ভাগ খামারীকেই সম্পৃক্ত করা হয়নি। এই পর্যন্ত তারা খামারীদের নিয়ে কােন মিটিংও করেনি। তিনি অভিযােগ করেন, আমরা বিভিন্ন সময় এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কিন্তু কােন ব্যবস্থা নেয়া হয়না। তাদের অভিযােগ, এভাবে কাগজে কমিটি করে মহল বিশেষ দিনের পর দিন ফায়দা তুলে নিচ্ছে আর প্রকৃত খামারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তারা বলেন, আমরা তো ব্যবসা করতে এসেছি। দ্বন্দ্ব করতে নয়। কিন্তু আমরা সংগঠনের কথা বললে আমাদরকে নানা কথা শুনানো হয়। এই পর্যন্ত তারা খামারীদের নিয়ে একটি মিটিংও করেনি।

ফরিদপুরের সদর থানা ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী কামরুল হাসান বলেন, ২০১৯ সালে ১১ সদস্যবিশিষ্ট আমাদের এই কমিটি গঠন করা হয়। এরপর এটি ২১ সদস্যে বাড়ানাে হয়। কেন্দ্রীয় কমিটি ২০ আগস্টের মধ্য এই কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ জনে উন্নীত করতে বলেছে। কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিং করতে পারলেও সাধারণ খামারীদের নিয়ে সব সময় বসা হয় না স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা সব সময় রুলস এন্ড রেজুলেশন অনুসরণ করতে পারি না এটি ঠিক।

এ ব্যাপারে জেলা ডেইরী ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর কাশেম আলী বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমােদন নিয়েই এক বছর দুই মাস আগে আমাদের এই কমিটি করা হয়েছে। মাঝে মধ্যেই আমরা মিটিং করি। তবে সর্বশেষ কবে মিটিং করেছি এটি এখন মনে নেই। তিনি দুর্নীতির অভিযােগ অস্বীকার করে বলেন, করােনাকালে জেলায় মাত্র দশ জনকে ন্যায্য মূল্যে দুধ বিক্রির সুবিধা দেয়া গেছে বিধায় যারা বাদ পড়েছে তারা নানা কথা বলছে।

দােকানের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দশনায় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একজন করে উদ্যােক্তাকে সরকারী জমিতে প্রকল্পের খরচে দােকান করে দেয়ার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই দােকান আমাকে সরকারী জমিতে প্রকল্পের টাকায় করে দেয়া হয়েছে। এটি ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনের নয়। বােয়ালমারীর সাতৈর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে তার মার্স এগ্রাে নামে একটি গরুর খামার রয়েছে একটা যেখানে ১৩টি গরু নিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। এখন ২১টি গরু আছে বলে তিনি জানান।

ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়নশনের এই সভাপতির দাবি, গরুর খামারীদের বারবার এই অ্যাসেসিয়েশনের সদস্য হতে বলেও লোক পাইনা।

ফরিদপুর জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তদরের কর্মকর্তা মাে. নুরুল আহসান বলেন, জেলায় যারা প্রকৃত গরুর খামারী তাদের নিয়ে ডেইরী ফারমার্স অ্যাসােসিয়েশনের কমিটি নতুন করে পুন:গঠনের জন্য জেলা ও উপজলা পর্যায়ো চিঠি পাঠিয়েছি। সিলেকশনে সবাই সম্মত না হলে ইলকশন করে কমিটি করতে হবে। তিনি বলেন, করােনার সময় অনেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিম বিক্রি করতে চায়নি বিধায় তাদের ডিম, নিতে পারিনি। আর ব্রাক্ষ্মসমাজ সড়কে যেই দােকানটি দিয়েছে সেটি জেলা প্রশাসনের উদ্যােগ। সেখানে প্রথমে একটি নিরাপদ সব্জির দােকান করার পর জেলা প্রশাসক মহােদয়ের অনুরােধে পাশেই আরেকটি গরুর দুধ ও ডিম বিক্রির কর্ণার স্থাপন করা হয়। সেখানে আরেকটি নিরাপদ মৎস্য বিক্রির কর্ণারও স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, একজন সেফটি অফিসার পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। বাকি সবই দােকান মালিকের দায়। ডিসি স্যার এর সাথে পৌরসভার সাথে চুক্তি করে এসব দােকান করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কে আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © ২০২০-২০২৩
Design & Development By : ফরিদপুর সমাচার

You cannot copy content of this page