মাহমুদুর রহমান(তুরান)ভাঙ্গা(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে প্রতিপক্ষের দ্বারা মিথ্যা মামলা দিয়ে বৈধ পৈতৃক সম্পত্তিতে বাড়ি-ঘর নির্মানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গ্রামের লাল মিয়া অভিযোগ করে জানান, ১১৭ নং গোয়ালদী মৌজার ৫৫৫নং বিএস খতিয়ানের ৭২৭,৭২৮,৭২৯ ৭৩০ নং দাগের পৈত্রিক সম্পত্তিতে দীর্ঘ্যদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছেন তিনি। সম্প্রতি ওই জমিতে বিল্ডিং নির্মান করার এক পর্যায়ে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ মৃত আবুল হাসেমের ছেলে সুরুজ্জামান মিথ্যা ,ভিত্তিহীন ,ভুল তথ্য দিয়ে আদালতের মাধ্যমে ১৪৪ ধারা জারী করায়।
এতে বাড়ি-ঘর নির্মানে বাধা দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন লাল মিয়া। তিনি জানান,দখলীকৃত জায়গা সম্পূর্ন পৈতিৃক। প্রতিপক্ষ সুরুজ্জামানের নিজ সম্পত্তি তার দখলেই রযেছে। অথচ সে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জমি দাবী করে আমাদের বাড়ি-ঘর নির্মানে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী সুরুজ্জামানের ভাইদের নিয়ে একাধিকবার এলাকায় সালিস-বৈঠক হয়েছে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তার ২ ভাই সহ বিষয়টি সবাই্্ মেনে নিয়েছে। তার দাবীকৃত জায়গা তার দখলেই রয়েছে।অথচ ধূর্ত প্রকৃতির সুরুজ্জামান অবৈধ অর্থ হাসিলের জন্য আমাদের বাড়ি-ঘর নির্মানে বাধা সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য শাহ চান বলেন, আমরা সকলের উপস্থিতিতে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছি।এখন সুরুজ্জামান বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য পায়তারা করছে। এলাকার মোস্তফা মাতুব্বর বলেন, মীমাংসা করা সত্যেও সে নতুন করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফন্দি-ফিকির করছে।
এ বিষয়ে সুরুজ্জামানের ভাই বলেন, এখানে আমার ভাই সুরুজ্জামানের দাবী অযৌক্তিক। আমাদের জায়গা দখলেই আছে। অযথাই তাদেরকে হয়রানী করা হচ্ছে। তাছাড়া অভিযুক্তদের সাথে আমাদের মামা-ভাইগ্নার সম্পর্ক। জমি দখলের প্রশ্নই উঠেনা। এ ব্যাপারে সুরুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,ওই খতিয়ানভ’ক্ত জায়গার মধ্যে আমার অংশ রয়েছে।
এলাকার সালিস-বৈঠকে আমি বিচার পাইনি। এ নিয়ে আমি আদালতের নিষেধাজ্ঞা চাইলে ঘর-বাড়ি সাময়িক ভাবে আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি তার প্রতিবেশী সুরুজ্জামান ওই জমির বিরুদ্বে আদালতে একটি আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত শান্তি-শৃংখলা রক্ষার্থে ১৪৪ ধারা জারি করে। এর প্রেক্ষিতে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে নির্মান কাজের ব্যাপারে স্থানীয়. সালিসে উপস্থিত থাকা কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন,লাল মিয়ার জায়গায়ই তিনি ঘর তুলেছেন।’তাদের বৈধ কাগজ পত্র রয়েছে। প্রতিপক্ষ সুরুজ্জামান কারও কথাই শুনছেনা।বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি জানান,বিষয়টি আমি শুনেছি,যেহেতু এটি আদালতের স্পর্শকাতর বিষয় । সরেজমিনে গিয়ে উভয়পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply