ডেস্ক রিপোর্ট : রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দল স্বেচ্ছায় নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে পাঁচটি জাহাজে করে চট্টগ্রাম থেকে এ যাত্রা শুরু করেন তারা। চট্টগ্রামের বোট ক্লাব, আরআরবি ও কোস্টগার্ডের জেটি থেকে জাহাজগুলো ছেড়ে যায়। ৪২৮ পরিবারের ১৮০৫ রোহিঙ্গা সোমবার ৩৯টি বাসে করে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সূত্রে জানা গেছে, বিশেষে নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সোমবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ১৩ বাসে ৫৯৫ জন, ২টা ১০ মিনিটে ১১ বাসে ৫৩৯ জন, ৫টা ১০ মিনিটে ১৫ বাসে ৬৭১ জনসহ ৪২৮ পরিবারের মোট ১৮০৫ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে গাড়িগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।
এছাড়াও রোহিঙ্গাদের মালামাল নিয়ে ১১টি কার্গো এবং ট্রাক গাড়িবহরে যুক্ত ছিল। এর আগে গত রোববার বিকালে ও সোমবার সকালে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্টে নিয়ে এসে রাখা হয়। তাছাড়া ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা ট্রানজিট পয়েন্টে আসতে শুরু করেন। ভাসানচরের কাজ করতে যাওয়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) এর চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ১৮০৫ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা তাদের সঙ্গে যাচ্ছি। এখানে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রতি যত্ন নেয়া হয়েছে।
তারা যেন শীতে কষ্ট না হয় তার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সরকারের সহযোগী সংস্থা হিসাবে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরনের জন্য সব আমরা কাজ করছি। সূত্রে জানা যায়, উখিয়া ও টেকনাফের তালিকাভুক্ত ক্যাম্প ছাড়া বাকি সব ক্যাম্প থেকেই রোহিঙ্গারা সেচ্ছায় ভাসানচরে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশেষ করে উখিয়ার কুতুপালং-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৮ ডবি¬উসহ থাইংখালী ১৩ নাম্বার ক্যাম্প থেকে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার সোমবার ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ মঙ্গলবার দুপুরের নাগাদ ভাসানচর পৌঁছবেন তারা।
এদিকে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গা ভাসানচরে গেছে। এর আগে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে সমুদ্র উপকূলে আটক আরও তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে রাখা হয়। উলে¬খ্য যে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পরবর্তী মিয়ানমারে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এর আগে থেকে রয়েছে আরও চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। বর্তমানে সব মিলিয়ে ১১লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply