সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় হামলা পাল্টা হামলা চালিয়ে উভয় গ্রুপের অন্তত ১৬টি দোকানঘর ও ২টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অন্তত ১২ জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ থেকে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী বাজারে এ সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব মোল্যার সাথে প্রতিপক্ষের আওয়ামী লীগ নেতা মো. কাইয়ুম মোল্যার পূর্ব থেকে বিরোধ চলছিল। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। এরই জেরধরে সোমবার রাত ১০টার দিকে কাইয়ুম মোল্যার সমর্থকরা যদুনন্দী বাজারে আসলে আব্দুর রব মোল্যার সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই খবর পেয়ে আব্দুর রব মোল্যার ২০০ থেকে আড়াই শতাধিক সমর্থক এসে কাইয়ুম মোল্যার সমর্থকদের ধাওয়া দিলে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
একপর্যায় প্রতিপক্ষের ধাওয়ায় কাইয়ুম মোল্যার সমর্থকরা পিছু হটে আবার রাত হওয়ায় অনেকেই দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যায়। এই সুজোগে কাইয়ুম মোল্যার সমর্থকদের অন্তত ১৪টি দোকানঘর ও দুটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে রব মোল্যার সমর্থকরা এবং কাইয়ুম মোল্যার সমর্থকেরা রব মোল্যার দুটি দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এই ঘটনায় উভয় গ্রুপের অন্তত ১২ জন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ী মোঃ তুষার শেখ বলেন, আমি কোন দল করি না, সামনে দুর্গা পূজা উপলক্ষে প্রায় ৩ লাখ টাকা ধার ও লোন নিয়ে আমি নতুন কিছু মাল তুলেছি। প্রতিদিনের মত আমি দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই। আমি অসুস্থ ছিলাম, সংঘর্ষের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। খবর পেয়ে বাজারে এসে দেখি আমার সব শেষ, হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আমার দোকানের প্রায় সব মালামাল নিয়ে গেছে এবং কিছু নদীতে ফেলে দিয়েছে। এই হামলায় আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি হামলাকারীদের বিচার চাই এবং আমার মালামাল ফেরত চাই।
আব্দুর রব মোল্যা বলেন, ১০-১২টি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে কাইয়ুম মোল্যা ও তার সমর্থকরা অতর্কিতভাবে আমার তিন সমর্থককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে এবং তাদের দোকানপাটও ভাঙচুর করে। পরে খবর পেয়ে আমার সমর্থকরা ওদের ধাওয়া দিয়ে এলাকা ছাড়া করে দেয়। এ সময় কাইয়ুমের কয়েকজন সমর্থকের দোকানে হামলা করা হয়েছে, এটা ঠিক। তবে ওরা আগে হামলা না করলে এমন ঘটনা ঘটতো না।
তবে কাইয়ুম মোল্যা বলেন, আব্দুর রব মোল্যার সমর্থকদের একটা দোকানও ভাঙচুর করা হয়নি। এমনকি কাউকে মারধরও করা হয়নি। এটা তারা মিথ্যা অভিযোগ করছে। বরং অতর্কিতভাবে রব মোল্যা ও সাজ্জাদ খন্দকারের সমর্থকরা আমার সমর্থকদের ১১টি দোকান ও ৪টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং দোকানে থাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যদুনন্দী বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে ওই বাজারে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সেনাবাহিনী দুই জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply