তৈয়বুর রহমান,বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক বছর আগে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনার দায়েরকৃত মামলার বাদির বিরুদ্ধেই বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেছেন জনৈক নিহতের স্ত্রী। নিহত মো. খায়রুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. নাসিমা বেগম বাদি হয়ে আগের মামলার বাদি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জামান সিদ্দিকি (৫৮) ও ঘোষপুর ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ জামাল মেম্বারসহ ১৫ জনকে আসামী করে গত ১৫ অক্টোবর এ মামলা দায়ের করেন। এর আগে ২০২২ সালের ৭ মে দায়েরকৃত মামলার বাদি ছিলেন মোস্তফা জামান সিদ্দিকি। এক আদেশ বলে আদালত ওই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।
মামলার অপর আসামীরা হলেন, মামুন (৪৫), হাসানুর (৩৬), মাজেদ ফকির (৫৫), মো. জাফর সেক (৪৭), গফফার সেক (৪৫), নাছির সেক (৩৮), নাজির সেক (২৮), বিল্লাল (৪৪), হিল্লাল (৩৬) প্রমুখ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার ১ নং আসামি মোস্তফা জামান সিদ্দিকি এলাকায় দলাদলি করে এবং অন্যায় অপরাধ কর্মে নেতৃত্ব দেয়। ২০২২ সালের ৩ মে ঈদের নামাজের জামাতকে কেন্দ্র করে মসজিদে তালা দেওয়া নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে আসামিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। মামলার বাদির স্ত্রী মো. খায়রুল ইসলাম ও অপর এক ব্যক্তি আকিদুল ইসলাম আসামিদের কথামতো তাদের নেতৃত্বে ঈদের নামাজ পড়তে না যাওয়ায় আসামীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে নিহতদের বসতবাড়িতে গিয়ে খায়রুল ইসলাম ও আকিদুল মোল্যাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে লাল মিয়ার বসতবাড়ির নিকট নিয়ে যায়। সেখানে মোস্তফা জামান সিদ্দিকির নেতৃত্বে অপর আসামীরা খায়রুল ইসলাম ও আকিদুল মোল্যাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
মামলার বাদি মোসা. নাসিমা বেগম বলেন, হত্যার বিচারের জন্য বোয়ালমারী থানায় ওই সময় মামলা করতে গেলে মোস্তফা জামান সিদ্দিকি মামলা হয়েছে বলে আমাদেরকে জানান। আমাদের আর কোন মামলা করা লাগবে না বলেও তিনি নিষেধ করেন। তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে জানতে পারি আসামীগণ উক্ত ঘটনা হতে নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য এলাকার নিরীহ নির্দোষ কিছু লোকজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরা পরবর্তীতে মামলা করার উদ্যোগ নিলে আসামীগণ আমাদেরকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে জিম্মি করে রাখে। এজন্য বিজ্ঞ আদালতে মামলা করতে বিলম্ব হয়ছে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply