আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ চলছে ফসলের রবি মৌসুম, আর কয়েক দিনের মধ্যই কৃষক ঘরে তুলবে চৈতালী ফসল। গম অন্যতম রবি ফসল হলেও কমেছে গমের চাষ। পাট-পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় রবি মৌসুমে ৫ বছর আগেও ১৭০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হত। বিভিন্ন সমস্যা ও লাভ কম হওয়ায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে উপজেলার গম চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস ও কয়েকজন গম চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ বছরের গড় হিসেবে উপজেলায় গম চাষ হয়েছে প্রায় ১৭ শত হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে গম চাষ নেমে এসেছে প্রায় ৮ শত হেক্টর। কারণ হিসেবে জানা যায়, গমের ব্লাস্ট ও পাতা পোড়া রোগ যে কারনে উৎপাদন কমে যায়, তাছাড়া ইদুরের উৎপাত, মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় গম চাষ করেন না অনেকেই।
গম চাষে মোট উৎপাদন খরচ ও মোট উৎপাদন প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় কৃষকের লাভ কম হয়। আবার রবি মৌসুমে বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি এবং পেঁয়াজ চাষের জমি ক্রমাগত বাড়ছে, যা গমের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভজনক। ফলে গমের জমি কমছে। তবে কৃষকদের গম চাষে আগ্রহ বাড়াতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে চাষিদের মাঝে গম ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জীবাংশু দাস বলেন, পেঁয়াজ ও সবজির তুলনায় কম লাভজনক হওয়ায় গম চাষ কিছুটা কম হচ্ছে। তবে গম চাষে আগ্রহ বাড়াতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চাষিদের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ গম ও সার বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া কৃষকদের গম চাষে সব ধরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বারি গম- ৩০, বারি গম ৩২, বারি গম ৩৩ জাতের গমের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি, ফলনও বেশি হয়। আমরা কৃষকদেরকে এসব উন্নত জাতের গম চাষের পরামর্শ প্রদান করছি।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply