এনামুল মবিন(সবুজ),জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর : মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি)কেন্দ্রীয় গবেষণাগার। এ গবেষণাগার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি।
রোববার রাতে দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ শেখ রাসেল হল সংলগ্ন মাঠে “জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক স্বারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং পক্ষকাল ব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্যে বলেন, সারা বিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশের ভয়াবহ করোনার কারনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটাই ব্যহত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, নিজেদের পড়া-শুনা এগিয়ে নিয়ে পিছিয়ে পড়া সময়টুকু পুষিয়ে নিতে হবে। তবেই শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তিনি যুগোপযোগী পদ্ধতি অনলাইনে শিক্ষার্থীদের সংযোজন করে পাঠদানে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে ক্লাসে তাদের পিছিয়ে থাকতে না হয়। শিক্ষার অগ্রগতি উন্নয়ন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিজ্ঞানভিত্তিক মান সম্পন্ন পাঠদানে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেন।
তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণের পর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি সম্পদ হয়ে বেড় হয়ে যাবে। উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীরা কেউ বেকারত্ব থাকবে না। সকলেই নিজেদের শিক্ষা গ্রহণের মধ্যে তাদের পেশা বেছে নিয়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ধাবিত হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে হাবিপ্রবি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাবিপ্রবির ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার, স্বাধীনতা শিক্ষা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. বলরাম পোদ্দার।
এদিকে ডিবেটিং সোসাইটি অব এইচএসটিইউ’র সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন বলেন, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে হাবিপ্রবি প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাঝে বিতর্ক প্রতিযোগিতা রাখায় বিতার্কিকরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিভিন্ন অনুষদের বিতার্কিকরা তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এ আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়নে আমরা ডিবেটিং সোসাইটি অব এইচএসটিইউ এর সদস্যবৃন্দ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, হাবিপ্রবির সেন্ট্রাল ল্যাব সম্পর্কে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার উদ্বোধন হলে হাবিপ্রবি গবেষণার দিক দিয়ে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করতেছি। এই গবেষণাগার বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি রিসার্চের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। গবেষণাগারে থাকছে বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা। প্রায় সকল বিভাগ গবেষণার কাজে এই ল্যাব ব্যবহার করতে পারবে। আমরা যেমন জিনোম সিকুয়েন্স থেকে শুরু করে, ডিএনএ ও আরএনএ আইসোলেশন, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু চিহ্নিতকরণের মতো জটিল জটিল কাজ করতে পারব উক্ত ল্যাব ব্যবহার করে। একইভাবে অন্যান্য বিভাগ সমূহ নিজ নিজ গবেষণার কাজে এই ল্যাবটি ব্যবহার করতে পারবে
You cannot copy content of this page
Leave a Reply