1. faridpursamacharbd@gmail.com : Apurba Kumar Das : Apurba Kumar Das
  2. faridpursamachar@gmail.com : Apurba kumar Das : Apurba kumar Das
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ:
ফরিদপুর সমাচার নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম । ভয়াল করোনার এই মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, সুস্থ থাকুন। বাস্তব সমাচার , আমাদের অঙ্গিকার ।। 

দিনাজপুর চিরিরবন্দরে সরিষা ফুলের গন্ধে মুখরিত মাঠ

  • বর্তমান সময়: বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুর চিরিরবন্দরে সরিষা ফুলের গন্ধে মুখরিত মাঠ
দিনাজপুর চিরিরবন্দরে সরিষা ফুলের গন্ধে মুখরিত মাঠ

দিনাজপুর চিরিরবন্দরে সরিষা ফুলের গন্ধে মুখরিত মাঠ

এনামুল মবিন(সবুজ),জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর : দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার মাঠগুলো ছেয়ে গেছে সরিষার হলুদ ফুলে। কৃষকের স্বপ্ন দুলছে সরিষার মৌ মৌ গন্ধে। প্রতিকুল আবহাওয়া সত্তেও উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। বিভিন্ন মাঠে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ আর বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে চোখে পড়বে হলুদ আর হলুদ রঙের সমারোহ। মৌমাছির আনাগোনা আর সরিষা ফুলের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য যেন প্রাণ জুড়ে যায়। এ যেন প্রকৃতির অপরুপ রুপের খেলা। ভোজ্য তেলের মূল্য ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে সেচ ও সার কম লাগে। ফলে সরিষা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হয়। এছাড়াও ফুল ও পাতা ঝড়ে জৈব সার তৈরি করে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। তাই অনেক কৃষক সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জমিতে দু-একটি চাষ দিয়েই বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপণ করা যায়। সরিষা আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক কম লাগে। কম খরচে সরিষা উৎপাদন হয়ে থাকে। বর্তমানে মাঠগুলোতে সরিষার ফুল ফুটেছে। সরিষা কেটে অনেক কৃষক বোরোধান চাষ করবেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪৫ হেক্টর জমি। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সরিষার ভালো ফলন হবে।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নশরতপুর, সাতনালা, ফতেজংপুর, আলোকডিহি, সাঁইতাড়া, তেঁতুলিয়া, ঈসবপুর, আব্দুলপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠগুলো সরিষার চাষাবাদ ভালো করেছেন চাষিরা। ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাঠ। কৃষকের মনে বইছে আনন্দের জোয়ার।

উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মহসিন আলী ও বাবলু জমিতে সরিষা লাগিয়েছেন এবং তারা সাফল্য অর্জনের আশা করছেন। তারা জানান, গত বছর থেকে নিজ উদ্যোগে আবাদযোগ্য জমিতে সরিষা চাষ করে প্রতি মৌসুমে অন্যান্য ফসল আবাদের তুলনায় অতিরিক্ত লাভ করে আসছেন। উপজেলার ঈসবপুর ইউনিয়নের উত্তর সুকদেবপুর গ্রামের মুজাম আলী আড়াই একর এবং আব্দুল জলিল ২ একর এবং নশরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামের কার্তিক সরকার ১ একর ও হরিহর রায় দেড় একর জমিতে প্রণোদনার বীজ পেয়ে সরিষা চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে সরিষার ফলন বেশি হওয়ায় এবং বর্তমানে বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এবার বেশি লাভের আশা করছেন তারা।

সরিষা চাষি আব্দুলপুর গ্রামের মোকলেছ বলেন, কৃষি বিভাগের সরকারি প্রণোদনার ভালো বীজ পেয়ে সঠিক সময় বীজ রোপণ, সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়, রোগ নিরাময়ের জন্য সঠিক মাত্রায় কীটনাশকসহ ফুলফল বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ও বিভিন্ন প্রকার সার প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই আগাম ফসল ফলিয়ে তা বাজারজাত করতে পারলেই উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হলে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়। তারা আরো বলেন, ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে বর্তমানে খরচ হয় অন্তত দেড় হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে বিঘাপ্রতি ৬-৮ মণ সরিষা পাওয়া যায়। প্রতিমণ সরিষার বর্তমান বাজারমূল্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। অন্যান্য ফসল চাষ করে প্রতিবিঘায় যে পরিমাণ লাভ হয় তার চেয়ে ওই পরিমাণ জমিতে সরিষা চাষ করে দ্বিগুণ লাভ পাওয়া যায়। এছাড়াও সরিষা চাষ করলে ফুল ও পাতা ঝড়ে জৈব সার তৈরি হয়ে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। সে কারণে জমিতে পরবর্তীতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না এবং ধানের ফলনও ভালো হয়। সরিষা চাষে একদিকে যেমন বেশি লাভ হয় অন্যদিকে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। সেদিক বিবেচনা করে সাধারণ কৃষকরাও সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

কৃষকরা আরো জানান, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে অনেকে সরিষা চাষের জন্য সার ও বীজ বিনামূল্যে সহায়তা পেয়েছেন। জমিতে বীজ বপণ করে সরিষা ভালো হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষাবাদে খরচ কম। উৎপাদন ভালো হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সরকারি সার্বিক সহযোগিতায় এবার সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, এ উপজেলার মাটি সরিষা চাষের জন্য উপযোগি। সরিষা চাষ করলে খাবার তেলের চাহিদা পূরণসহ পাতা ও ফুল পড়ে জৈব সার তৈরি করে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। তিনি আরো বলেন, এবছর প্রণোদনা বীজ দেয়া হয়েছে ৭৫০ জন কৃষককে ও বিভিন্ন প্রকল্পের ৬০-৭০টি গ্রুপে প্রদর্শনী বীজ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরিষা বারি-১৪ ও বারি-১৫ ও বারি-১৮ উপজেলায় সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। এ জাতের সরিষার ফলন বেশি এবং জীবনকাল কম। সরিষা কেটে কৃষকরা বোরোধানও উৎপাদন করতে পারবেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কে আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © ২০২০-২০২৩
Design & Development By : ফরিদপুর সমাচার

You cannot copy content of this page