সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বৃদ্ধ খুন হামলা ভাংচুর লুটপাট
আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও জমিজমা নিয়ে দুইজনের কথা কাটাকাটির জেরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধ নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। নিহত বৃদ্ধের নাম মোহাম্মাদ মাতুব্বর (৬০)। সে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া দক্ষিন পাড়ার মৃত জহুর মাতুব্বরের ছেলে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মাদ মাতুব্বরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই ইয়াদ অালী শেখের দোকান ও বাড়ীসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট করে নুরু মাতুব্বরের সমর্থকেরা। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মুনসুর মাতুব্বরের ছেলে এবং মোহাম্মদ মাতুব্বরের ভাতিজা নুরু মাতুব্বর এবং নারানদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত সোবহান মাতুব্বরের ছেলে ওহিদ মাতুব্বর গত ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া দুপক্ষের মধ্যে জমির লিজের টাকা নিয়েও বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় পার্শবর্তি বিনোকদিয়া বাজারে নুরু মাতুব্বর ও তার সমর্থকদের সঙ্গে ওহিদ মাতুব্বর ও তার সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই সূত্র ধরে নারানদিয়া শাহাদত মাতুব্বরের বাড়ির সামনে ফের সংঘর্ষ বাধে, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে নুরু মাতুব্বরের চাচা মোহাম্মদ মাতুব্বরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এ হামলায় গুরুত্বর আহত অবস্থায় নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোররাতে তিনি মারা যান।
নিহত ব্যক্তির বড় ভাই ইনছুর মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, গত নির্বাচনে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য ওহিদকে আমরা ভোট দেইনি। নির্বাচনের পর থেকে ওহিদ ও তার ভাই ব্যবসায়ী সাহেব আলী আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের গ্রামের আবেদ নামে দুই ব্যক্তির জমি নিয়ে মারামারির সময় ওহিদ ও তার ভাই সাহেবের নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে মোহাম্মাদ মাতুব্বরকে রড দিয়ে পিটিয়ে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তাদের সমর্থকরা। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। আমরা এ হত্যার সঠিক বিচার চাই।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ওহিদ মাতুব্বর বলেন, জমি নিয়ে বাজারে কথা কাটাকাটির বিষয়টি নিয়ে নুরুর লোকজন রামদা নিয়ে এগিয়ে এলে আমাদের লোকজন তাদের ধাওয়া দেয়। পরে জানতে পারলাম মোহাম্মাদ মাতুব্বর রাস্তার পড়ে গিয়ে আহত হয়ে মারা গেছে। আর তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। তার ওপর কেউ হামলা করেনি।
অভিযুক্ত সাহেব আলী সাহেব বলেন, আমি ব্যতিক্রম পাবলিকেশন্স এর ব্যবস্থ্যাপনা পরিচালক। সারা বছর ঢাকা থাকি। এলাকায় বেড়াতে গিয়াছিলাম। কিন্তু এই সংঘর্ষের কোন খবর আমি জানি না। সকালে শুনছি মোহাম্মদ মাতুব্বর মারা গেছেন।
এই বিষয়ে নুরু মাতুব্বর বলেন, আমার চাচা মারা গেছে, আমি সালথা আসতেছি বিস্তারিত সাক্ষাতে বলবো।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশিকুজ্জামান বলেন, দুপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হন মোহাম্মদ মাতুব্বর। লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন শৃংখলা পারস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
Leave a Reply