এনামুল মবিন(সবুজ),জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর : স্যার শব্দটি সে সকল সফল ব্যক্তিদের নামের আদ্যপ্রান্তে সম্পৃক্ত হয় যারা ব্রিটিশ রাণী কর্তৃক “নাইট উপাধি” অর্জন করেন। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ১৮৫৮ সালে জন্ম নেয়া জগদীশ চন্দ্র বসু ১৯১৫ সালে পান নাইট উপাধি ।
ময়মনসিংহে জন্ম নিলেও বিক্রমপুরে বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা ছিলেন ম্যাজিষ্ট্রেট। লর্ড কেলভিন, অলভি, আলবার্ট আইনস্টাইন সহ বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের নিকট জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন জগদীশ। বেতারতরঙ্গ আবিস্কার ছিল জগদীশের জগৎ জোড়া সাফল্য। পদার্থ বিজ্ঞানে ১৮৮৫ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯১৬ সালে অধ্যাপনা থেকে অবসর নিয়ে তৈরি করেন বিজ্ঞান মন্দির।
স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু আমাদের বাঙালিদের গর্ব। গাছেরও প্রাণ আছে এটি তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন। ১৮৭৪ সালে সেন্ট জেভিয়ার স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৮৭৮ সালে এফএফ পরীক্ষায় পাশ করে তিনি লন্ডনে ডাক্তারি পড়তে যান ১৮৮০ সালে। এক বছর ডাক্তারি পড়ার পর জগদীশ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানে ভর্তি হোন এবং সেখান থেকেই উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন।
জগদীশ চন্দ্রবসু ছিলেন আপোষহীন এক বাঙালী বিজ্ঞানী। দীর্ঘ তিন বছর অবৈতনিক অধ্যাপনা করে তিনি ব্রিটিশ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। ১৯৩৭ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিজ্ঞান মন্দিরে তিনি অসংখ্য এক্সপ্রিমেন্ট চালান এবং সফল হোন।
জগদীশ চন্দ্রবসু সম-সাময়িক বিজ্ঞানীদের নিকট ছিলেন অতি সম্মানিত একজন গবেষক। বিজ্ঞানীদের নিকট স্যার আইজেক নিউটনের সমকক্ষ হিসেবে জগদীশ চন্দ্রকে তুলনা করা হয়।
বাঙালিদের সাফল্য গাঁথায় বিজ্ঞানে উজ্জল দৃষ্টান্ত জগদীশ চন্দ্র বসু। বাঙালি উত্তারাধিকারে বিজ্ঞান ও গবেষণা তাই তো বিশ্বমানে সাফল্যের বার্তা বহন করে। আমরাও পারি এমন স্বপ্নের দ্রষ্টা স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর অর্জনকে বাঙালি শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে গুরুত্বসহকারে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply