এনামুল মবিন(সবুজ),জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর : দিনাজপুর বিরলে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচী (প্রগতি) এর বিরল উপজেলা এরিয়া ম্যানেজার হিরণময় রায় ও ক্রেডিট অফিসার সুমন চন্দ্র সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানি, অসৌজন্যমূলক আচরন, ঋণ দেয়ার নামে উৎকোচ গ্রহণসহ বিভিন্ন ধরণের অপকর্মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দিনাজপুর বিরল উপজেলার পৌর-শহরের ভূক্তভোগী গ্রাহকেরা অভিযোগ করেন, বিরল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচী(প্রগতি) এর কার্যক্রম দীর্ঘদিন যাবৎ সুষ্ঠুভাবে চলে আসলেও এরিয়া ম্যানেজার হিরণময় রায় ও ক্রেডিট অফিসার সুমন চন্দ্র সরকার যোগদানের পর থেকে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পুরাতন গ্রাহকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন এবং হয়রানী করে আসছেন।
ভূক্তভোগী পুরাতন গ্রাহক মহসিন আলী, আক্তার হোসেন বাবু’সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, আমরা এই প্রোগ্রামের শুরু দিক থেকে বছরের পর বছর ধরে গ্রাহক হয়েছি। সুনামের সাথে আমরা লেনদেন করে আসছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান এই এরিয়া ম্যানেজার ও ক্রেডিট অফিসার যোগদানের পর “পান থেকে চুন খোষার মতো সামান্য বিষয় পেলেই” দীর্ঘদিনের পুরাতন গ্রাহকদেরকে সু-কৌশলে ঋণ পরিশোধ নিয়ে দ্রুত পূণরায় ঋণ দেয়ার কথা বলে দিনের পর দিন হয়রানী করতে থাকেন। ফলে বাধ্য হয়েই গ্রাহকেরা তাঁদের সঞ্চয় তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার চলমান ঋণ পূনরায় না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এতে ব্যবসার স্বাভাবিক গতিতে ধ্বস নেমে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
ভূক্তভোগীরা আরো জানান, পুরাতন গ্রাহকেরা নিয়ম-নীতি সবকিছু জানেন বলে তাদের কাছে কর্মকর্তারা ফায়দা হাসিল করতে (উৎকোচ গ্রহন) না পারায় তাঁদেরকে বাদ দিয়ে নতুন গ্রাহকদের প্রথমবারেই বড় ধরনের ঋণের লোভ দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তাদের ঋণ প্রদান করেন। বিরলের বিভিন্ন গ্রামের গ্রাহকদের ঋণ প্রদানের তালিকা দেখে সরজমিনে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করলে থলের বিড়াল বেড়িযে আসবে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
এছাড়াও অফিস ফাঁকি দিয়ে ফিল্ডের কথা বলে নতুন গ্রাহকদের বাড়ীতে ঘন ঘন মেহমান হয়ে গিয়ে ভুড়িভোজ করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে বিরল এরিয়া ম্যানেজার হিরণময় রায় এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দম্ভ করে বলেন, আমার ব্যাপারে যা লেখার আছে আপনারা লেখেন। এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে পারবো না বলে তিনি এ সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে ব্র্যাক জেলা সমন্বয়ক অমল কুমার দাম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, নীতিমালার বাইরে আমরা কোন কিছুই করতে পারিনা। অভিযোগকারী গ্রাহকরা অবশ্যই নীতিমালার মধ্যে পড়ে নাই বলে তারা ঋণ পাননি। ভূক্তভোগী গ্রাহকেরা বিষয়টি দ্রুত সঠিক তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply