এনামুল মবিন(সবুজ), জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর : নীলফামারী সৈয়দপুর উপজেলা শহরের কয়ামিস্ত্রীপাড়া এলাকার জয়ত্রী রানী রায়ে(২০) আর্শিবাদ ও রেজিস্ট্রি হয়েছে ১ বছর আগে। গত রবিবার ২১ নভেম্বর রাতে মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন কনের বাবা শ্রী তুলশী চন্দ্র রায়। বাড়িতে চলছে আনন্দ-উল্লাস। দুর-দুরান্ত থেকে এসেছেন আত্মীয়-স্বজনরা। কিন্তু এর মধ্যেই বাধে বিপত্তি। বিদায়ের আগের দিন জানতে পারে বর ১ সপ্তাহ আগে আরেকটি বিয়ে করেছে তাঁর পছন্দের মেয়েকে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়ে যে, বিয়ের আসরেই বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সেই সময় বিয়েতে যৌতুকের ১০ লাখ টাকাসহ ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করে বউকে তালাক দেন বর।
স্বজনরা ফরিদপুর সমাচার কে জানায়, ১ বছর আগে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার চম্পাতলী মাস্টারপাড়া এলাকার অমূল্য চন্দ্র রায়ের ছেলে নিতাইচন্দ্র রায়ের(২৩) সঙ্গে তুলশীচন্দ্র রায়ের মেয়ে জয়ত্রী রানী রায়ের আশীর্বাদ ও রেজিস্ট্রিতে বিয়ে হয়। সরকারি চাকরিতে টাকা লাগবে বলে জামাই নিতাইচন্দ্রের বাবা যৌতুক হিসেবে মেয়ের বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন। ছেলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডিফেন্সে ফাইটার হিসেবে যোগদান করেন।
এদিকে আনন্দ চিত্তে মেয়েকে বিদায় দেওয়ার প্রস্তুতি নেন পরিবারের লোকজন।পণ্ডিত ডেকে গত রোববার বিদায়ের দিন-তারিখ ও লগ্ন ঠিক করা হয় এবং কেনাকাটাও সম্পন্ন করা হয়।
ঠিক আগের দিন সন্ধ্যায় মেয়ের বাবার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। অপর পক্ষ থেকে বলা হয়, ছেলে প্রতারক। সে ১ সপ্তাহ আগে লালমনিরহাটে তার পছন্দের এক মেয়েকে কোর্টে বিয়ে করেছে। এই কথা শুনে মুহূর্তে বিয়েবাড়ির পরিবেশ গুমোট হয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। মেয়ের বাবাসহ আত্মীয়স্বজন যান জামাইয়ের বাড়িতে। সেখানে মোবাইল ফোনে আসা বিয়ের খবরের সত্যতা পাওয়া যায়। এ খবরে মেয়ের বাবাসহ পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
সে সময় রাতেই জামাইকে জোর করে তুলে নিয়ে আসেন মেয়ের বাড়িতে। সেখানে মেয়ে বিদায়ের আয়োজিত আসরে যৌতুকের ১০ লাখ টাকাসহ ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করে বউকে তালাক দেন বর। এর পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৩, ১৪, ১৫ নং ওয়ার্ড নারী কাউন্সিলর রুবিনা বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রুবিনা বেগম জানান, বরের আরেকটি বিয়ের খবরের সত্যতা পাওয়া যায়। বর প্রতারক হওয়ায় কনে বিদায়ের আয়োজিত আসরে যৌতুকের ১০ লাখ টাকাসহ ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করে বউকে তালাক দেন বর।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply