1. faridpursamacharbd@gmail.com : Apurba Kumar Das : Apurba Kumar Das
  2. faridpursamachar@gmail.com : Apurba kumar Das : Apurba kumar Das
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
নোটিশ:
ফরিদপুর সমাচার নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম । ভয়াল করোনার এই মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, সুস্থ থাকুন। বাস্তব সমাচার , আমাদের অঙ্গিকার ।। 
শিরোনাম :

দিনাজপুর চিরিরবন্দরের খ্যতিমান ও বরেণ্য লেখক দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর লেখাই হচ্ছে – ধ্যান, জ্ঞান ও স্বপ্ন

  • বর্তমান সময়: মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৩২ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুর চিরিরবন্দরের খ্যতিমান ও বরেণ্য লেখক দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর লেখাই হচ্ছে - ধ্যান, জ্ঞান ও স্বপ্ন
দিনাজপুর চিরিরবন্দরের খ্যতিমান ও বরেণ্য লেখক দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর লেখাই হচ্ছে - ধ্যান, জ্ঞান ও স্বপ্ন

দিনাজপুর চিরিরবন্দরের খ্যতিমান ও বরেণ্য লেখক দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর লেখাই হচ্ছে – ধ্যান, জ্ঞান ও স্বপ্ন

এনামুল মবিন(সবুজ), জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর : দিনাজপুরের চিরিবন্দরের বরেণ্য এক নাট্যকার ও নির্দেশক দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী বরেন্দ্র শিশু থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মেধা বিকাশে ও সংস্কৃতি বিকাশ করতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলার প্রত্যয়— অঞ্চল ভিয়াইল ইউপি’র অন্তর্গত নানিয়াটিকর গ্রামের মৃত শশীমোহন ব্যানার্জীর পুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী ১৯৫০ সালের ১০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই অত্যান্ত— মেধাবী হওয়ায় মুলত তখন থেকেই কবিতা, নাটক, উপন্যাস লেখা শুর“ করেন। তিনি ধাপে ধাপে এম,এ (ডাবল) বি,এড, কাব্যতীর্থ, এল,এল,বি পাশ করে রাজশাহী সরকারী সিরোইল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করে অবসর গ্রহণ করে রাজশাহী বিয়াম মডেল স্কুলে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরীর পাশাপাশি তিনি রাজশাহীতে বরেন্দ্র শিশু থিয়েটার প্রতিষ্ঠা, শশীমোহন ব্যানার্জী স্মৃতি গ্রন্থাগার, বরেন্দ্র শিশু গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। তার রচনা ও নির্দেশনায় বরেন্দ্র শিশু থিয়েটার ব্যাপক পরিচিতি পায়। এ পরিচিতির সুবাদে বাংলা ভাষা শিক্ষক পর্যদ শান্তিনগর, ঢাকার রাজশাহী অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এছাড়াও তিনি রাজশাহী সনাতন ধর্ম সংঘের সাহিত্য সম্পাদক, রাজশাহী সাহিত পরিষদ, রাজশাহী লেখক পাঠক সংঘ, রাজশাহী নাট্য আন্দোলন পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। তিনি ১৯৯৫ ও ২০০১ ইং সালে রাজশাহী জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া ছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে দু’বার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ২০০৯ ইং সালে তিনি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশ কবিতা সংসদ, পাবনা থেকে ইসমাইল হোসেন সিরাজী স্বর্ণ পদক, বগুড়া পুন্ড্রবর্ধন সাহিত্য কল্যাণ পরিষদ থেকে সাহিত্য পদক ও ঠাকুরগাঁও জেলা সাহিত্য পরিষদ থেকে সাহিত্য পদক, নাট্যকার ও নাট্য সংগঠক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে ৬ বার সংবর্ধনা ও পদক গ্রহণ করেন। তিনি ২০১০ ইং সালে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে সম্মাননা পদক সহ পশ্চিম বঙ্গের ড. বি.আর আম্বেদকর হ্যান্ডিক্রাফ্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সম্মাননা পদক লাভ করেন।

তিনি “বর্ণ বৈভব” গ্রন্থ লেখার জন্য বর্ণের জাদুকর খেতাবে ভূষিত হন। এ খ্যাতিমান ও বরেণ্য নাট্যকারের আত্মজীবনী ১৯৯৯ ইং সালে ইংল্যান্ডে প্রকাশিত পৃথিবী বিখ্যাত মনিষীদের জীবনী গ্রন্থে ও কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংসদ বাংলা নাট্য অভিধান গ্রন্থেও তার আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০০০ ইং সালে। এ খ্যাতিমান নাট্যকারের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪৫টি, প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে ২৫টি গ্রন্থ। তার বেশ কিছু নাটক বিটিভিসহ ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, যশোরসহ বিভিন্ন মঞ্চে মঞ্চায়িত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলি হচ্ছে জুতা আবিস্কার, মায়ের ডাক, মনিহার, জিঘাংসা, প্রসন্ন প্রকৃতি, চিড়িয়াখানা, প্রজন্ম আগামী, নীরব কল্লোল, ভাষার ভূবনে, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, সবুজ মন, ভর্তি পরীক্ষা, এদের ধরিয়ে দিন, বাঁশি গোলাপী, ঋতুচক্র, অর্বাচীনের অনুশীলন, মিলনের মোহনায়, অতিথি সংকট, শুভংকরের ফাঁকি, কংলক মোচন, কবিতার মুক্তি চাই, নিস্কৃতি, পাঠশালা পলায়ন, স্বর্ণ পদক ইত্যাদি। তিনি শুধুমাত্র একটি বর্ণ শব্দের প্রথমে “প” অক্ষর দিয়ে একটি উপন্যাাস “পতিংবরা” ও ১ ঘন্টার একটি নাটক রচনা করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। বিশ্বসাহিত্যে এ পদ্ধতিতে লিখিত প্রথম উপন্যাস “পতিংবরা”। এছাড়া বাংলা ভাষায় প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রথম উপন্যাসও এটি। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস “পতিংবরা” কয়েকটি লাইন তুলে দেওয়া হলো

(পাঠশালা পালাবার প্রানহীন পেক্ষাপট প্রকৃতপক্ষে পীড়াদায়ক। প্রাচীন পদ্ধতিতে পড়াশোনায় পরিতৃপ্তি পাওয়া প্রশ্নাতীত। পন্ডিতের প্রহার পড়াশোনার পরিপন্থী। পুরস্কারের পরিবর্তে প্রহারই প্রাধান্য পাচ্ছে পাঠশালা গুলিতে। পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্নপত্র প্রকাশ প্রীতিহীন, পরীক্ষার পর প্রমোশন পেতে, প্রথম প্লেস পেতে, পক্ষপাতিত্ব, প্রতিহিংসা প্রাধান্য পাচ্ছে। পাঠ পরিকল্পনা পরিবর্জিত পড়াশোনা প্রতারনার পর্যায়ে পড়ে। পাঠশালার প্রিয় প্রাঙ্গন পশু পালনের প্রধান প্রান্ত—রে পরিনত। পাঠে পিছিয়ে পড়া, পাঠোন্নতিতে প্রত্যাশাহীনতা, পাঠদানে পরিবেশের প্রতিকুলতা প্রভৃতি পাঠশালা পলায়নের প্রধান পেক্ষাপট।)

এছাড়াও মহাভারতের মহারাজ বিরাট এর পর্বানুসারে “অজ্ঞাতবাস” নামে একটি মহাকাব্য লিখেন। এ মহাকাব্যের বিষয় বস্তু হচ্ছে পঞ্চপাঞ্চবের ১২ বৎসর বনবাসে অবস্থানের পর মৎস্যরাজ্যের অধিপতি মহারাজ বিরাটের বাসভবনে এক বৎসর আত্মগোপনে অবস্থান করা। এখানে পঞ্চপাঞ্চব ও দ্রৌপদী তাদের প্রকৃত নাম গোপন করে যথাক্রমে কঙ্ক, বল্লব, বহন্নলা, গ্রন্থিক ও তন্ত্রিপাল এবং দ্রৌপদীর নাম সৈরিন্ত্রী রাখেন। অমিত্রাক্ষর ছন্দের বাতাবরণে অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত এই ৪শত পৃষ্টার মহাকাব্য ২২টি সর্গে বিভক্ত। গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ মহাকাব্যের অনলাইনে মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কে আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © ২০২০-২০২৩
Design & Development By : ফরিদপুর সমাচার

You cannot copy content of this page