আলফাডাঙ্গায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ, একটি নিয়ে গেলেও দ্বিতীয়টিতে বাধা
আজিজুর রহমান দুলাল : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সড়কের পাশের সরকারি দুটি বড় মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে হবিবুর রহমান হবি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ইছাপাশা থেকে শুকুরহাটা সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। একটি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয় গাছ কাটার সময় স্থানীয়দের বাধা ও বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হবিবুর রহমান হবি প্রথমে একটি বড় মেহগনি গাছ কেটে সরিয়ে নেন। পরে দ্বিতীয় গাছ কাটার সময় বিষয়টি স্থানীয়রা আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসকে জানান। খবর পেয়ে তিনি কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছ কাটায় বাধা দেন। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই একটি গাছ সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বুলবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখেন। তিনি বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার গাছ কাটার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাছ কাটার চেষ্টা করলে ইউএনও অফিস থেকে আমাকে ফোন করে দ্রুত গাছ রক্ষার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। তখন আমি ঘটনাস্থলে এসে গাছ কাটায় বাধা দিই।’
চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ‘হবিবুর রহমান হবি প্রায়ই রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কাটেন।’ তার দাবি, কাটা ও কাটার চেষ্টা করা দুটি বড় মেহগনি গাছের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকার বেশি।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান, যাতে গাছগুলো নিয়ে যেতে না পারে। তবে তারা সেখানে পৌঁছানোর আগেই একটি গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সড়কের পাশের গাছ কাটার অনুমতি ছিল কি না এবং কেটে নেওয়া গাছটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তির গাছ অনুমতি ছাড়া কাটার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সম্পদ নষ্ট বা আত্মসাতের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’
অভিযোগের বিষয়ে হবিবুর রহমান হবি’র মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রায় ১০ মিনিট পর তার ছেলে ফোন করে বলেন, ‘আমি হাবিবুর রহমানের ছেলে। তবে গাছ কাটার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’
You cannot copy content of this page
Leave a Reply