রবিউল হাসান রাজিবঃ নারী নির্যাতন ও বাল্য বিবাহ বন্ধে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে আইন রয়েছে তা শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষে ফরিদপুরে ক্রিয়েটিং স্পেসেস প্রকল্প কানাডা কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং পিএসটিসি আয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ব্রাক লার্নিং সেন্টারের অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) এর প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার (অব) আব্দুর রউফ। ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশে সংস্থাটি এফপিএসটিসি নামে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে সংস্থাটি জাতীয় পর্যায়ে একটি বেসরকারি সংগঠন হিসেবে দেশে নতুন করে তার কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রুপকল্প নিয়েই মুলত সংগঠনটির যাত্রা শুরু।
ক্রিয়েটিং স্পেসেস প্রকল্প এর মুল লক্ষ বাংলাদেশের সমাজ থেকে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা, বাল্য বিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহ কমিয়ে আনা। কর্মশালায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বাল্য বিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহ রোধ এবং নারী ও শিশু বান্ধব আইনগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
এ অনুষ্ঠান ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইলা রানী কুন্ডু, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সেলিম মিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ জামশেদ, ভাঙ্গা উপজেলা ‘তথ্য আপা’ অপর্না মন্ডল, ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান, শিক্ষক, ইউপি সচিব, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তাগণ এ সময় পিতা মাতা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রতিটি গ্রামে একটি করে বল্য বিবাহ নিরোধ কমিটি গঠনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং বাল্য বিবাহের ভয়াবহতার বিষয়ে সকলকে সচেতন করার বিষয়েও পরামর্শ দেন।
এছাড়াও, স্থানীয় পর্যায়ে আইনগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জনসচেতনতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে ঘরে ঘরে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষন, যৌন সহিংসতা ও বাল্য বিবাহ বন্ধের নিতিমালা অনুযায়ী আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করার লক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এ কর্মশালায় পিএসটিসি এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তা জেবুন্নাহার শিলা ও কার্তিক চন্দ্র সাহা।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply