সাজ্জাদ হোসেন সাজু (চরভদ্রাসন প্রতিনিধি) : কাশের বনে লেগেছে দোলা, শুভ্র মেঘেরা ভাসিয়েছে ভেলা।। শরৎ এসে গেল আর কাশফুলের সঙ্গে দেখা করবেন না; তা কি করে হয়। শরতের বিকেলে মনকে প্রফুল্ল করতে ঘুরে আসতে পারেন কাশবন থেকে। কাশফুলের নরম ছোঁয়ায় এক স্নিগ্ধ বিকেল কাটাতে এবং শহুরে ব্যস্ততার ফাঁকে একটু শান্তির খোঁজে যেতে পারেন ফরিদপুরের সদরপুরে। যেখানে আপনাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে বিশাল এলাকাজুড়ে কাশবন। নীল আকাশজুড়ে অলস মেঘের অবাধ বিচরণ। খণ্ড খণ্ড মেঘের নিরুদ্দেশ যাত্রা।
প্রকৃতিতে এখন চলছে শুভ্র সুন্দর কাশবনের মন মাতানো রূপের খেলা। রোদের ঝলকানির পাশেই মেঘের ছায়া। মেঘ আর রোদের কানামাছি খেলার মাঝে বৃষ্টিও অংশ নিচ্ছে। এমন দিনে আপনাকে স্বাগত জানাতে কাশফুল ‘সাদা ডালি’ সাজিয়ে বসে থাকে। দক্ষিণা বাতাসে কাশফুলগুলো ঢলে ঢলে আপনার সঙ্গে কথা বলবে। আপনাকে আহ্বান জানাবে তার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। শরতের কাশফুলের এ রূপ সহজেই যে কারো চিত্তে দোলা দিতে বাধ্য করবে।
তাইতো শরতের বন্দনায় কবিগুরু বিমোহিত হয়েছেন বারবার। বর্ষা শেষে শরৎ আসে বলেই গাছের পাতারা হয় আরও স্নিগ্ধ, সজীব। চোখ মেললেই দেখা হয় বুনো ফুলের মাঝে রুপসী প্রজাপতি কিংবা ফড়িংয়ের সাথে। তবে ঋতুর রাণী শরতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কাশফুল। আকাশে ধবধবে সাদা মেঘের শতদল আর মাটিতে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল যে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য ছড়ায় তাতে থাকে শুধুই মুগ্ধতা। ইদানীং কাশফুলের কদর যেভাবে বেড়েছে তাতে ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছুর কদর বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলো। পদ্মার পলিতে জন্ম নেওয়া কাশফুল দেখে দেখেই বড় আমরা। পদ্মার বড় বড় ঢেউ, ভয়াল স্রোতস্বিনীর স্রোত , প্রতিনিয়ত ভাঙনের চিত্র এখানকার মানুষকে অভস্ত্য করে তুলেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের তিনটি জেলায় (ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ঢাকা) এই কাশফুলের দেখা মিলছে। এখানে গিয়ে সাধারণ মানুষেরা প্রচুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছে। নেটিজেন দুনিয়ায় বেশ প্রশংসাই কুড়িয়েছে।
বিশেষ করে এর প্রথম ভাগেই রয়েছে আমার জন্ম স্থান তথা ফরিদপুর জেলায়। ফরিদপুর জেলার (জেলা সদর থেকে ৩০/৩৫ কি.মি দূরে ) সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের চরে দেখা মিলে বিশাল এই কাশফুলের সমারোহ । দূরদূরান্ত থেকে অনেক অতিথি ঘুরতে আসে এখানে ।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply