মাসুদ হাওলাদার : মোখলেসুর রহমান একজন উচ্চ শিক্ষিত এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী। ইতিপূর্বে খর্বাকৃতির এ মানুষটির শরীরে উইলসন ডিজিসের প্রভাবে নানান রোগে বাসা বেধেছে। এতে হাত পা সুখিয়ে যাওয়ার ফলে তাকে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটা- চলা করতে হয়। মোখলেসুর রহমান ফরিদপুরের, সদরপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের মুনসুর খলিফার তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পিতা মুনসুর একজন ভূমিহীন দিনমজুর। তিনিই পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি।পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ৭ জন।
মুনসুর তাঁর পরিবারের জন্য দিনের খাবার তাকে দিনেই যোগাড় করতে হয়। বর্তমানে তাঁর শরীরও আগের মতো সায় দেয়না। রোগ-শোকে তাকেও ঘিরে ধরেছে বেশ শক্ত করেই। অন্যদিকে তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে বেকার ও দুর্বিষহ সময় পার করছেন নিরাশার গহব্বরে ডুবে। মোখলেসুর করোনা পরিস্থিতি বিপর্যয়ের পূর্বে কিছু পাড়ার ছেলেমেয়েদের পড়িয়ে এতে যে আয় হতো তা দিয়ে কোলের শিশু বাচ্ছাটির জন্য দুধ এবং তাঁর নিজের ঔষধ কিনতেই টানাটানি লেগে যেতো।
তিনি বলেন, “আমার সরকারি চাকুরির বয়স একেবারে প্রায় শেষপ্রান্তে। ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ হতে ২০১৪ সালে ভূগোলে এম এ পাশ করেছি । বিয়েও করেছি ৩ বছর ধরে। সংসার জীবনে আমি ২ বছরের এক কন্যা সন্তানের জনক। নিজের অর্থনৈতিক দৈন্যদশার ফলে কোলের শিশু সন্তানের মুখে ঠিকমতো খাবারও তুলে দিতে পারছিনা।
মোখলেসুর জীবনের এই কঠিনতম সময়ে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকুরির প্রত্যাশা করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি একজন প্রতিবন্ধী। আমার সন্তানের মুখের দিতে তাকিয়ে হলেও প্রধানমন্ত্রী যেন আমার জন্য একটি চাকুরির ব্যবস্থা করে দেন।”
You cannot copy content of this page
Leave a Reply