ফরিদপুর সামাচর : র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, জঙ্গিবাদ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। র্যাব শুরুু থেকে যে কোন ধরণের অপরাধী, অপহরণ, মাদক উদ্ধার, অপহ¦ত ভিকটিম উদ্ধারসহ দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিভিন্ন প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করতে সার্বক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানা হতে বিকাশ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল সেট ও সীমকার্ড সহ বিকাশ প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য আটক করেছে র্যাব-৮, সিপিসি-২ ফরিদপুর ক্যাম্প। র্যাব-৮, জানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানাধীন মিয়া পাড়া গ্রাম এলাকায় কিছু ব্যক্তি বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের নিকট হতে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্প গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গভীর অনুসন্ধান করে।
ঘটনা সত্যতা সম্পর্কে তথ্য প্রাপ্তির পর র্যাব-৮, সিপিসি-২ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল অত্র ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ আবদুর রহমান, পিএসসি এবং স্কোয়াড অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ খোরশেদ আলম এর নেতৃত্বে ০৫/০৬/২০২১ইং তারিখ গভীর রাতে ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানাধীন চতলারপাড় গ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিকাশ প্রতারক চক্রের ০৩ জন সক্রিয় সদস্য, ০১। মোঃ খলিল শেখ(২১), পিতা-মোঃ চান্দু শেখ, সাং-চতলারপাড়, থানা-ভাংগা, ০২। মোঃ শওকত মাতুব্বর(২২), পিতা- গোলাম মোস্তফা মাতুব্বর, সাং-ফেলোমাতবরকান্দি, থানা-সদরপুর,এ/পি, সাং-মিয়াপাড়া, থানা-ভাংগা, ০৩। মোঃ মারুফ হাওলাদার(২০), পিতা- মোঃ শহিদুল হাওলাদার, সাং-মগড়া, থানা- ভাংগা, সর্বজেলা-ফরিদপুর’দেরকে আটক করে।
এ সময় আটককৃত প্রতারক চক্রের সদস্যেদের হেফাজত হতে বিকাশ প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত ০৯ (নয়) টি মোবাইল ফোনসহ ১০ (দশ) টি সীমকার্ড জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিগণ বিকাশ প্রতারনার মাধ্যমে জনসাধারনের নিকট হতে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্বীকার করে। ঘটনার বিবরনে জানা যায়, বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দুর্নীতি পরায়ণ মোবাইল সীম বিক্রেতার সাথে পরস্পর যোগসাজস করে ভূয়া নামে সীম কার্ড রেজিস্ট্রেশন ও উক্ত সীমকার্ড ব্যবহার করে অসাধু ডিএসআর (বিকাশ এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বিকাশ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগকৃত এ্যজেন্ট) গণের মাধ্যমে ভূয়া বিকাশ এ্যাকাউন্ট খোলে।
প্রতারক চক্রের সদস্যরা দুর্নীতিপরায়ণ ডিএসআর গণের নিকট থেকে অর্থের বিনিময়ে বিকাশ এ্যজেন্টদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে ঐসব ভূয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সীমকার্ড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সহজ সরল সাধারণ জনগনের নিকট নিজেকে বিকাশ হেড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে কৌশলে তাদের বিকাশ পিন কোড জেনে নেয় এবং স্মার্ট ফোনে বিকাশ এ্যাপস্ ব্যবহার করে উক্ত সাধারণ লোকজনের বিকাশ এ্যাকাউন্ট হতে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান আছে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply