মাহমুদুর রহমান(তুরান),ভাঙ্গা(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিথ্যা মামলা,পেশী শক্তি প্রদর্শণ,এলাকায় আধিপত্য বিস্তার সহ পরিবার ও নীরিহ লোকজনকে হয়রানির অভিযোগে আনসার ব্যাটেলিয়ন সদস্য নিজ পুত্র মহি উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বৃদ্ধ পিতা হাজী আঃ মান্নান শেখ।
শুক্রবার সকালে উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের ভদ্রাসন গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ছেলের স্বেচ্ছাচারী আচরন সহ তার কুকর্মের কথা তুলে ধরে নানা অভিযোগ করেন তিনি।এসময় মহিউদ্দিনের আপন ভাই মহাসিন শেখ,নিজাম শেখ,ভাবী হোসনেয়ারা বেগম, পিয়ারি বেগম,লাইলী বেগম সহ অন্যান্য প্রতিবেশীরা তার বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের সদস্যদেরকে হয়রানী,জমি-জমা আত্মসাৎ,মারপিট ,নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ধরেন। আপন ভাই নিজাম শেখ অভিযোগ করে বলেন, তিনি প্রবাসে থাকাকালে মহি উদ্দিনের নিকট প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা পাঠান। কিন্ত মহি উদ্দিন সমুদয় টাকা আত্মসাত করে উল্টো আমাকে সহ পরিবারের সদস্য দের নানাভাবে হয়রানী করেন। এমন কি সম্প্রতি তিনি আনসার ব্যাটেলিয়ন সদস্য হলেও নিজেকে র্যাব পরিচয় দিয়ে মানুষকে হয়রানী করেন।
তারা বলেন মহিউদ্দিন আনসার ব্যাটেলিয়ানের সদস্য হিসেবে টাঙ্গাইলে কর্মরত থাকলেও অধিকাংশ সময়ই কর্মস্থলে না থেকে তার গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করে থাকেন।কোথাও কোথাও তিনি নিজেকে পুলিশের বড় অফিসার হিসেবেও পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন শৃংখলা (আনসার বাহিনীর) সদস্য হওয়ায় এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুসম্পর্ক থাকায় এলাকায় প্রভাব সহ নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগও রয়েছে বিস্তর। সাম্প্রতিক মহিউদ্দিন রমজান মাসের শবে কদরের নামাজের দিন মসজিদের বেতনের টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে তার আপন ভাই মহসিন শেখ ও নিজাম শেখের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন।
এক পর্যায় মহিউদ্দিন ও তার পুত্র খাইরুল ইসলাম মিলে ঘরে থাক লোহার রড,ও লাঠিসোটা এনে তাদেরকে বেদম মারপিট করে।এসময় মসজিদে থাকা মুসল্লীরা তাদেরকে ঠেকাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।এ ঘটনায় মহিউদ্দিন উল্টো তার স্ত্রীকে দিয়ে মেঝো ভাই মহাসিন শেখ,ভাতিজা নাঈম শেখ(১৯),সোহাগ শেখ(২৬),সেজো ভাই নিজান শেখ,ভাতিজা হাসিবুল শেখ(১৯) চাচাতো ভাই রেজাউল শেখ(২৫)সহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মামলায় নিরপরাধ রেজাউল শেখকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে।আটককৃত ভাতিজা রেজাউল শেখের মুক্তি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে মহিউদ্দিনের পিতা ও এলাকাবাসী। খোদ পিতা হাজী আঃ মান্নান শেখ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তার অপকর্ম ঠেকাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। এমনকি আমাকে পর্যন্ত সে মারপিট করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ তার অত্যাচার ও ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে নারাজ। এলাকার পার্শবর্তী কাফরপুর গ্রামের কদম আলী মাতুব্বর,চাড়ালদিয়া গ্রামের তৈয়ব আলী মাতুব্বর,নিজ গ্রামের রশিদ মাতুব্বর,ফেলু মাতুব্বর,নুরুল হক মাতুব্বরসহ আরও গন্যমান্য ব্যাক্তিরা বলেন, ওই আনসার সদস্য নিজেকে বড় অফিসার দাবী করে এলাকায় মামলা,হামলায় ইন্ধনসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন।
এমনকি নিছক কোন ঘটনা ঘটলেই সেখান থেকে ফায়দা লুটার জন্য ভ’ক্তভোগীর নিকট থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে থাকে। এলাকাবাসী উক্ত মহি উদ্দিনের বিরুদ্বে তদন্ত সাপেক্ষে তার অপকর্ম থেকে বাচঁতে উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানান। এ বিষয়ে মহি উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মাহমুদুর রহমান(তুরান)
You cannot copy content of this page
Leave a Reply