এনামুল মবিন(সবুজ), জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর : শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের দিনাজপুর। ঢেউয়ের মতো খেলে যাচ্ছে ধান গাছের সবুজ পাতা ও শীষ। চিরিরবন্দর উপজেলার ৩নং ফতেজংপুর ইউনিয়নের চারদিকে এখন ঘন সবুজের সমারোহ। আর এই সবুজ ফসলের মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। কিছু দিনের মধ্যে সবুজ ধানগাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করবে।
সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করবে ফসলের মাঠ। সবুজ মাঠ ভরা ফসল দেখে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের ছোঁয়া। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চিরিরবন্দর উপজেলায় এবার ইরি-বোর ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোর ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ইরি-বোর ধানের শীষ বের হয়েছে। তবে কিছু কিছু জমিতে ধানে রোগ দেখা দিলেও সেটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
তারপরও সতর্কতার সাথে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছে কৃষকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে,উপজেলার সাতনালা, আউলিয়াপুকুর, ফতেজংপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মাঠে ইরি-বোর ধানের চাষাবাদে ভরে গেছে। ধানক্ষেতে ওষুধ প্রয়োগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। ইরি-বোর ধান লাভ জনক ফসল। তাই কৃষকরা বোরো মৌসুমকে ঘিরেই নানা স্বপ্ন দেখে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে চাষাবাদকৃত ইরি-বোর ধান গতবারের চেয়ে এবার ভালো হয়েছে। আর কয়েক দিন পরই ধান কাটা শুরু করা যাবে। এখন পর্যন্ত ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। এবছর বিদ্যুৎ ও সারের কোনো সংকট দেখা দেয়নি। যার কারণে ফসলের চেহারাও অনেক সুন্দর হয়েছে। সবল-সতেজ চারাগুলো দেখে মনে হয় ধানের ব্যাপক ফলন হবে। দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে হতাশা প্রকাশ করেছে কৃষকরা।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ইরি-বোর ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আসছি। এ পর্যন্ত বোরো চাষে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। তাই ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply