সালথায় তান্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার এড়াতে এলাকা পুরুষ শুন্য, আটক ৬১
আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গত ৫ই এপ্রিল রাতে গুজবে সহিংসতার ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২৬১ জনকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত আড়ও প্রায় ৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ শনিবার দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৬১ জনকে আটক করেছে। গ্রেফতার এড়াতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রায় পুরুষ শুন্য হয়ে পরেছে।

সালথায় তান্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার এড়াতে এলাকা পুরুষ শুন্য, আটক ৬১
উপজেলার সোনাপুর, রামকান্তপুর, ভাওয়াল ও মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এলাকা প্রায় পুরুষ শুন্য, দুএকজন চোখে পরে এরা বেশিরভাগ শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলা। মহিলাদের সাথে কথা বলে জানা যায় অনেকেই এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তবে পুলিশের ভয়ে অন্যত্র পালিয়ে আছে। এছাড়াও করোনা কালিন সময়ে লকডাউন থাকায় রাস্তাঘাট প্রায় ফাকা হয়ে পরেছে। রাস্তায় তেমন কোন যান বাহন চোখে পরে নাহ।
৫ই এপ্রিল রাতে গুজবে তান্ডবের ঘটনায় গত ৬ই এপ্রিল রাতে প্রথম মামলাটি করেন, সালথা থানা পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান, ঐ মামলায় ৮৮ জননের নাম উল্যেখ করে আরও ৩/৪ হাজার জনকে আসামী করা হয়।
এছাড়াও গত ৮ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার নতুন আরও চারটি মামলা হয়েছে তার একটি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর। এ মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সালথায় তান্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার এড়াতে এলাকা পুরুষ শুন্য, আটক ৬১
আরেকটি মামলা করেছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকারের গাড়িচালক মো. হাশমত আলী। এই মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অপর মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস। এ মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৩ থেকে ৪ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
আরেকটি মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার। এ মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে তিন থেকে চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসিকুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মোট গ্রেপ্তার ৬১ জনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রিমান্ড চেয়ে জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হয়, এর মধ্যে ২৬ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে এবং কয়েকজনের রিমান্ড শেষ হয়েছে, পর্যায়ক্রমে আরও রিমান্ড চাওয়া হবে। এই ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সালথায় তাণ্ডবের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের দু’টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর একটিতে প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে অপর কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আসলাম মোল্লাকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই দুই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার ৫ই এপ্রিল সোমবার ফরিদপুরের উপজেলায় লকডাউন কার্যকর করা না করা নিয়ে স্থানীয় উত্তেজিত জনতার মাঝে গুজব ছড়িয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা ব্যাপী তান্ডব ও ধ্বংশলীলা চালায়, তান্ডবলীলা শেষে বর্তামানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সময় উপজেলা পরিষদ ও থানা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। উত্তেজিত জনতা উপজেলা পরিষদ ভবন, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলায় পরিষদ চত্তরে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুড়াল, গাছপালা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি, সহকারী কমিশনারের গাড়ি, মোটরসাইকেল, উপজেলার সামনে অবস্থিত পেট্রোল পাম্প, সালথা থানা ও কর্মকর্তাদের বাসভবনসহ বেশ কিছু স্থাপনা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় জুবোয়ের হোসেন (২০) ও মিরান মোল্যা (৩৫) নামের দুই যুবকের মৃত্যু ও মোট ৬১ জনকে আটক হয়েছে বলে জানা যায়।
Leave a Reply