ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর গ্রামে ঘটেছে। আহতরা হলেন ঐ গ্রামের ক্ষুদে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী হতদরিদ্র আলমগীর শেখের স্ত্রী হাসিয়া (৩৫) ও তার দুই মেয়ে আলপনা (১২) এবং সামিয়া (১০)। বর্তমানে ছোট মেয়ে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকী দুইজনকে কয়েকদিন হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরন দিয়ে আলমগীর শেখ বলেন, আমার বাড়িতে মরিচ গাছ লাগিয়েছিলাম। গাছগুলো প্রতিবেশী আসাদ মাতুব্বরের (৫০) দুটি ছাগল এসে খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। আমার ছোট দুই মেয়ে ছাগল তাড়িয়ে দিলে আসাদ ও তার দুই ছেলে সেলিম (৩১), শামীম (২৭) একত্র হয়ে তাদের উপর হামলা করে। এ সময় আমার ছোট মেয়ে সামিয়াকে চাপাতি দিয়ে শামীম কোপ দেয় এবং বড় মেয়ে আলপনাকে লাথি ও পারায়ইয়া অজ্ঞান করে কলমি গাছের ভেতর ফেলে রাখে। আমার স্ত্রী নগরকান্দা শহরে অন্যের বাসায় কাজ করে। সে খবর পেয়ে ছুটে এসে মেয়েদের খুজতে থাকে। এ সময় মেয়েদের কলমি ক্ষেতের ভেতর দেখে চিৎকার দিলে তাকেও চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। পরে আমি খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখে তাদের স্থানীয়রা নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে পরদিন শুক্রবার রাতে তাদের ফরিদপুর মেডিকেলে প্রেরণ করেন।
তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, কেন আমার ছোট ছোট দুই মেয়ের উপর হামলা করলো। আমার কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। জানা যায়, আলমগীর শেখ ভূমিহীন হিসেবে ২০১০ সালে সরকার কর্তৃক জায়গা পেয়ে ঘর তুলে সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। প্রতিবেশী সেলিম মাতুব্বর তাদের উচ্ছেদ করার জন্য নানাভাবে পায়তারা করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার এস আই তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঐ ঘটনায় উভয় পক্ষই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আগামীকাল দু’পক্ষ নিয়ে স্থানীয় কমিশনার আমিন ফকির একটি শালিসে বসবে। শালিসের বিষয়ে আলমগীর আমাকে জানিয়েছে। সে মামলা নিতে বললে মামলা নেওয়া হবে।
তবে, গতকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) বিকালে আলমগীর শেখ জানান, আমি শালিসে বসতে চাই না। আমি দারোগাকে শালিসের বিষয়ে কিছুই বলিনি। সে আমাকে ফোন দিয়ে শালিসে বসতে বলেছে। আমি গরিব মানুষ, এ ঘটনার বিচার চাই। এ বিষয়ে কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি। তবে যেটুকু জানি আসাদের ছেলেপেলে নিয়ে এই নিরীহ পরিবারের উপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আলমগীরের স্ত্রী ও ২ মেয়ে হাসপাতালে রয়েছে। আসাদের পরিবারের কেউ আহত হয়নি।
Leave a Reply