বেলায়েত হোসেন লিটন , নগরকান্দা প্রতিনিধিঃ হাজারো রোগের মহাঔষধ মধু, মধু ভালবাসেনা এমন লোক বা জাতি খুবই কম আছে। মধু প্রকৃতিক ভাবেই বনজঙ্গলে, গাছে বা ডালে, ওয়ালের সানসেটে, বাড়ীর বসত ঘরের আশে পাশে, বাঁশে কিংবা বিদ্যূতের খুটিতে মৌমাছি মৌচাক বানিয়ে মধু তৈরী করে, আর এই মধুই মানুষের শরীরে নানান রোগের উপকারে আসে, মধুর চাহিদা এখনও আকাশ চুম্বী, নিয়মিত ও পরিমিত মধু সেবন করলে যেসব উপকার পাওয়া যায়।
তা হলো- হৃদরোগ প্রতিরোধ করে, রক্তনালি প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে, এবং হৃদপেশির কার্যক্রম বৃদ্ধি করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দাঁতকে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে, দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে, মধুর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে , ফলে রক্তবর্ধক হয়, যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগে বিশেষ করে মহিলারা, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক ।
মধুকে এককভাবে ব্যবহার করলে পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের উপকার পাওয়া যায়, আলচার ও গ্যাস্ট্রিক রোগের জন্য উপকারী, দুর্বল শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘায়ের জন্য খুবই উপকারী , মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, বাতের ব্যথা উপশম করা ছাড়াও আরো অনেক রোগের মহাঔষধ। তবে ভেজালের জগতে আসল মধু পাওয়াই কষ্টকর। সেইদিক চিন্তাকরেই প্রাকৃতিক ভাবেই বানিজ্যিক হিসেবে মৌমাছি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগ্রহ করা হচ্ছে বাক্সের মধু।
তারই অংশ হিসেবে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের ফুলসুতি গ্রামে অাম বাগানে মৌচাক বাক্স বসিয়ে মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন মেসার্স কাইয়ুম মৌ খামারের স্বত্বাধিকারী নাটোরের মোহাম্মদ আলী মন্ডল। ১২০ টি মৌ বাক্স বসিয়ে ১৩ দিন যাবৎ মধু সংগ্রহ করে আসছেন। ১২ থেকে ১৫ দিন পর পর মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে ৩/৪ মন মধু সংগ্রহ হয় বলে মৌ খামারের মালিক মোহাম্মদ আলী মন্ডল জানান। প্রতিকেজি মধু ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন।
নাটোর গুরুদাসপুরে ২০১০ সালে ২০ টি মৌ বাক্স দিয়ে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেন মোহাম্মদ আলী মন্ডল। এখন তার মৌ খামারে ১২০ টি মৌ বাক্স রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান প্রজাতি মৌমাছি দিয়ে ভ্রাম্যমাণ ভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকেন মোহাম্মদ আলী । মধু সংগ্রহ করে দেশ বিদেশে মধু বিক্রি করে অধিক পরিমানে মুনাফা অর্জন করে তিনি আজ সাবলম্বী। একটি রানী মৌমাছি প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ২৫ শত ডিম দেয় এবং ২১ দিন পর ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে মধু সংগ্রহ শুরু করে।বর্তমানে কালোজিরা, ধনিয়া ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করায় মধু সংগ্রহ কম হচ্ছে।
লিচু বাগানে মধু সংগ্রহ করলে এর তিন/চার গুন মধু সংগ্রহ হতো একই সময়ের মধ্যে জানালেন মৌচাষী মোহাম্মদ আলী মন্ডল। তিনি আরো বলেন শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকুরীর পিছনে ছুটাছুটি করে ব্যার্থ না হয়ে আমার মতো মৌচাষ করলে তারাও সাবলম্বী হবে। স্বল্প খরচে বেশী লাভ এই পেশায় তাই বেকার যুবকদেরকে এই মৌচাষে আসার আহ্বান জানাই। তবে সরকারী ভাবে যদি আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যেতো তাহলে মৌচাষীর সংখ্যা আরো বেশি হতো।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply