মাহমুদুর রহমান(তুরান)ভাঙ্গা(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ সাজানো সংসারের আনন্দ কারও জীবনে বেশী দিন থাকেনা। অনেকের জীবনের মত প্রবাসী মনির হোসেনের জীবনেও ঘটেছে এমনই এক ঘটনা। সংসারের সুখের জন্য স্ত্রী-সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি দীর্র্ঘ্য সময় কাটিয়েছেন প্রবাস জীবন।ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়নের পল্লীবেড়া গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেন অভিযোগ করেন,স্ত্রীর নানাবিধ পাতানো ফাদঁ,মামলা-হামলাসহ নানাবিধ অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, শ্বশুর-শাশুড়ীসহ সবাই মিলে আমাকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন হয়রানীমূলক মামলা দিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। এরপর থেকেই পিতৃালয়ে থাকছেন স্ত্রী। জানা গেছে,২০১২ সালের ৭ অক্টোবর জেলার সদরপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের দেলোয়ার পত্তনদারের মেয়ে দিলরুবা আক্তারের সাথে মনির হোসেনের বিবাহ হয়।
বিয়ের পর বেশ কিছুদিন ভালই কাটছিল তাদের সংসার। মনির হোসেন অভিযোগ করে বলেন,বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই দিলরুবা ও তার পরিবারের সাথে নানা বিষয় নিয়ে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে বিভিন্ন কৌশলে বেশ কিছু অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। কিছু দিন পর তিনি সৌদি আরব যাওয়ার পর শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অযৌক্তিক দাবীর পরিমান বাড়তে থাকে। স্ত্রী কারনে অকারনেই বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা দাবী করত। স্ত্রীও অনেকটা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠে।
শ্বশুর জমি ক্রয়ের নাম করে ধার হিসেবে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে ফেরৎ দেয়নি বলে দাবী করেন তিনি। টাকা ফেরৎ চাইলে তারা তা নিয়ে নানা রকম ফন্দি ফিকির করে। স্ত্রী দিলরুবা কারনে অকারনে আমার বাবা-মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে সে স্বামীর বাড়িতে না থেকে পিতার বাড়িতে থাকার স্বীদ্বান্ত নেয়।তাদের নানামুখি ষড়যন্ত্র ও প্রতারনায় আমার এবং আমার পরিবারের জীবন দুর্বীসহ হয়ে উঠে। ইতঃপূর্বে পরিকল্পিতভাবে শ্বশুরালয়ে খাবারের সাথে নেশাদ্রব্য খাইয়ে সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সাও ছিনিয়ে নেওয়ার চ্ষ্টো করে বলে জানান তিনি।
এর ধারবাহিকতায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং তারিখে মনির হোসেন,মা বাবা সহ বেশ কয়েক জনকে জড়িয়ে একটি মামলা দায়ের করে। এরপর ধারাবাহিকভাবে একাধিক মামলা দায়ের অব্যাহত রাখে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিক শালিস-বৈঠকসহ ব্র্যাক আইন শালিস কেন্দ্রেও মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্ত কোন সুরাহা হয়নি।সম্প্রতি মনির হোসেন উপজেলার কোষাভাঙ্গা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে সংঘবদ্বভাবে হামলা চালিয়ে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান,মামলা হামলার কারনে সৌদি আরবের ভিসা বাতিল হয়ে এখন আমি বেকার হয়ে মানবেতর সময় পার করছি।স্থানীয় আঃ লতিফ চোকদার বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও কোন সুরাহা করতে পারিনি। এলাকার মোতালেব মিয়া,বাদল মাতুব্বর,আঃ বারেকসহ বেশ কিছু গন্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ বৈঠক করলেও মেয়ে পক্ষের একগুয়েমি ও হঠকারিতার কারনে তা সম্ভব হয়নি বলে তারা দাবী করেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী দিলরুবা ও কার পরিবারের সাথে কথা বললে অভিযোগ অস্বীকার করে তারা বলেন,একাধিকবার স্বামীর সাথে কলহ মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও স্বামী ও তার পরিবারের কারনে তা সম্ভব হয়নি।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply