ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাডাঙ্গী গ্রামে ১১ বছর বয়সী শিশু নিবিড় মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যু এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিবিড় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরেজমিনে তদন্তে নামে স্থানীয় সাংবাদিকরা। ঘটনাটি ঘটে গত ২ নভেম্বর দুপুরে। পরিবারের দাবি, ঐদিন বিকেলে খেলার মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরই নিজ ঘরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় নিবিড়কে। দ্রুত সবাই ছুটে গেলেও ততক্ষণে শিশুটি মারা যায়।
৫ নভেম্বর সকাল ১১ টায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন নিবিড়ের মা রুবিয়া বেগম (৩৫)। তিনি বলেন, “২০ বছরের সংসার জীবনে স্বামী মুরাদ মন্ডল শুধু যন্ত্রণা দিয়েছে। প্রায়ই যৌতুক দাবি করত, নেশা করত, কথা বললেই মারধর করত। এক বছর আগে বাধ্য হয়ে আমি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসি।” তিনি জানান, দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে নিবিড় সবচেয়ে ছোট। প্রায় দুই মাস আগে ছেলেটি বাবার কাছে ছিল দাদাবাড়িতে। আর সেখানেই ঘটে তার মৃত্যুর ঘটনাটি। দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ,
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিবিড়ের বাবা মুরাদ মন্ডল ও তার ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিক গ্রাম্য সালিশও হয়েছে, কিন্তু কোনো সমাধান মেলেনি। নিবিড়ের মৃত্যুর পর নানা বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ—এই জমি বিরোধের জেরেই শিশুটির মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি করা হচ্ছে। নিবিড়ের নানার বাড়ির লোকজন জানান, দাদাবাড়ির কয়েকজন সদস্য গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে এড়িয়ে যাচ্ছেন। সরেজমিনে সেখানে উপস্থিত টিমের সদস্যরা নিবিড়ের চাচা আজম মন্ডল, আজাদ মন্ডল ও বিল্লাল মন্ডলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে আজম মন্ডল নিজের ভাই আজাদকে “পাগল” বলে আখ্যা দিয়ে আলোচনা থামিয়ে দেন। বিল্লাল মন্ডলও জানিয়ে দেন—তিনি কিছু জানেন না। ফলে ঘটনাস্থলে দ্বন্দ্বপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার পেছনে জমি বিরোধের ছায়া?
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দাদাবাড়ির মধ্যে জমি ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এক চাচাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে পরিবারের বাকিদের বিরুদ্ধে। এলাকার কিছু লোকের মতে, নিবিড়কে নিয়ে ঘটনার দিন বিকেলে মাঠে খেলার সময় তার কয়েকজন চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর নিবিড় বাড়ি ফিরে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ খবর আসে—নিবিড়কে নিজ ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ এফ এস’ নামের এক ফেসবুক পেজে একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ প্রকাশিত হয় বলে অভিযোগ তুলেছে নিবিড়ের নানা বাড়ির পরিবারের লোকজন। তারা বলেন, “যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সংবাদটিতে আমাদের পরিবারের সদস্যদের অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।” তারা এই সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এবং নানা বাড়ির লোক আরো জানান, নিবিড় এর মৃত্যুর ২ মাস আগে থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে আসে নি। তবে ওই ফেসবুক পেজ এ আমাদের কে উদ্দেশ্য করে একটি ভুল তথ্য প্রকাশ করে যা আইনের পরিপন্থী। এলাকাজুড়ে শোক ও প্রশ্ন, শিশু নিবিড়ের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও রহস্যে ঘেরা। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা হোক।
জাতীয় দৈনিক লাখো কন্ঠের স্থানীয় প্রতিনিধি জানান, “নিবিড়ের মৃত্যুর ঘটনায় অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। এদিকে নিবিড়ের মৃত্যুর ঘটনা যে ঘরটির মধ্যে হয়েছে বলে দাবি করা হয়, সে ঘরে কোনো ফ্যান নেই, কোনো টুল বা চেয়ার ছিলো না, তাকে কিভাবে পাওয়া গিয়েছে তা কারো মুখেই স্পষ্টতা পাওয়া যায় নি, পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক চাপ ও তথ্য গোপনের প্রবণতা মিলিয়ে সত্য উদঘাটন এখন সময়ের দাবি।” নিবিড়ের মৃত্যুর এ রহস্যজনক ঘটনা এখন ফরিদপুরবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে—“১১ বছরের নিষ্পাপ শিশুর এমন মৃত্যু কি শুধু একটি দুর্ঘটনা, নাকি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ?”
You cannot copy content of this page
Leave a Reply