1. faridpursamacharbd@gmail.com : Apurba Kumar Das : Apurba Kumar Das
  2. faridpursamachar@gmail.com : Apurba kumar Das : Apurba kumar Das
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
নোটিশ:
ফরিদপুর সমাচার নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম । ভয়াল করোনার এই মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, সুস্থ থাকুন। বাস্তব সমাচার , আমাদের অঙ্গিকার ।। 

ফরিদপুরে স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুরীর প্রতারণায় নিঃস্ব কাঞ্চন মাতুব্বর

  • বর্তমান সময়: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুরে স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুরীর প্রতারণায় নিঃস্ব হয়েছেন এক যুবক। প্রতারণার মাধ্যমে সব কিছু নিয়ে অন্য ছেলেকে বিয়ে করেছেন তার স্ত্রী। আর এই কাজে তাকে সাহায্য করেছেন স্ত্রীর বাবা-মা ও বড়বোন। ভুক্তভোগী ঐ যুবকের নাম মো. কাঞ্চন মাতুব্বর। সে জেলার নগরকান্দা উপজেলার দরদাপুরের বাসিন্দা তোফাজউদ্দিনের পুত্র। অভিযুক্ত জেলার মধুখালি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের রউফ মোল্যার মেয়ে মোসা. হিরা সুলতানা। বর্তমানে নিঃস্ব যুবক বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, কাঞ্চন মাতুব্বরের সাথে এর বিবাহ হয় হিরা সুলতানার সাথে। বিয়ের সময় ২ভরি সোনার গহনাসহ বেশ কিছু টাকা খরচ করে কাঞ্চন মাতুব্বর। প্রথম ভালোই চলছিলো তাদের সংসার। এরপর নানা অজুহাতে শুরু হয় অশান্তি ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব। গোপনে নানা অজুহাতে অর্থ গোছাতে থাকে হিরা। এরপর গচ্ছিত টাকা ও নগদ অর্থ নিয়ে  কিছু না বলেই চম্পট দেয় হিরা।

ঘটনার সত্যতা জানতে প্রতিবেদক সরেজমিনে শ্রীপুর গেলে এলাকাবাসী জানায়, আব্দুর রউফ মল্লার ছয় মেয়ে ও এক ছেলে, এবং প্রায় প্রত্যেক মেয়েরই তিন—চারটি করে বিয়ে হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রউফ মল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা অতিরিক্ত অর্থ ও উপহার দাবি করে বরের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে, এবং চাহিদা পূরণ না হলে মেয়েদের পুনরায় অন্যত্র বিয়ে দেয়। কিছুদিন আগে হিরা ঢাকা থেকে ফিরে এসে সিলেটের এক ছেলের সঙ্গে পুনরায় বিয়ে করেছেন, যা তার পরিবারের সক্রিয় সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে কথা বললে রউফ মোল্যার ছেলে, যিনি প্রবাসে থেকে সাংবাদিকদের কাছে অবাক করা স্বীকারোক্তি দেন। তিনি বলেন, “আমরা ছয় বোন, এক ভাই। আমার বোন জামাই কাঞ্চন একেবারেই নির্দোষ। আমার বাবা—মা ওবোনেরা মিলে ওকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। ওর সর্বনাশ করেছে। আমার ছোট বোন হবার পরও আমি ওর পক্ষ নিতে পারি না। কারণ, আমার পরিবার বোনদের দিয়ে অমানবিক কাজ করায়, আমি নিজেও ন্যায়বিচার চাই।”

ভুক্তভোগী  কাঞ্চন মাতুব্বর জানান, “আমার দুই ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ তিন লাখ টাকা ও ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে আমার স্ত্রী হিরা সুলতানা অন্যত্র চলে যায়। আমি তখন ঢাকায় অফিসে ছিলাম। পরে জানতে পারি, আমার শ্বশুর—শাশুড়ি ও স্ত্রীর বড় বোন কোহিনুরের

সহযোগিতায় আমাকে ঠকিয়ে তাকে অন্য এক ছেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।” এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে হিরা সুলতানার বাবা আব্দুর রউফ মল্লা প্রথমে মেয়ের অবস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

শেষ পর্যন্ত লোকজন নিয়ে রব মোল্যার বাড়িতে গেলে তিনি অকপটে বলেন— “হ্যাঁ, আমি নিজেই আমার মেয়েকে সিলেটে অন্য এক ছেলের হাতে তুলে দিয়েছি, এবং কাঞ্চনকে ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে। আমি এই প্রতারক পরিবারের শাস্তি চাই। এই ঘটনার পর শ্রীপুর গ্রামের সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “একটা ছেলের জীবন এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই এই প্রতারণাকারী পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” অবিচার ও প্রতারণার শিকার কাঞ্চন মাতুব্বর এখন সমাজের কাছে এক বিচারের প্রতীক। তার দাবি, “আমি শুধু আমার হারানো সম্পদের নয়, ভাঙা বিশ্বাসেরও বিচার চাই।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কে আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © ২০২০-২০২৩
Design & Development By : ফরিদপুর সমাচার

You cannot copy content of this page