বিভাষ দত্ত ,নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীরা দিন কাটাচ্ছে অনাহারে। করোনার প্রার্দূভাব বেড়ে যাওয়া ও কঠোর লক ডাউনের কারণে খরিদ্দার কমে গেছে তাদের। করোনায় স্বাস্থ্যবিধির কারণে যৌনপল্লীর মূল খরিদ্দারা পল্লীতে ঢুকতে পারছেন না এবং লকডাউনের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে বাস ট্রাকের ভীড় নেই, নেই লোকজনের আনাগোনা। অপরদিকে করোনার কারণে পুলিশ প্রশাসনের রয়েছে কড়া নজরদারী।

দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীরা দিন কাটাচ্ছে অনাহারে-অর্ধাহারে
গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এই পতিতাপল্লীতে ১২শ থেকে ১৩শ যৌনকর্মী কাজ করেন। গত বছর করোনা প্রার্দূভাবের শুরুতে এই পল্লীতে অনেক সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাকে কোনো রকম জীবনযাবন করতে পেরেছিলো তারা। এবছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর তেমন কেউই তাদের সাহায্য করছে না। করোনার ভয়ে খরিদ্দার কমে যাওয়ায় যৌনকর্মীরা কাজ না পেয়ে পল্লী ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। সারিসারি ঘরগুলো ফাঁকা পরে আছে। যৌনকর্মীদের কোনো ব্যস্ততা নেই। এখন তারা কাজ না পেয়ে অলস সময় পার করছেন। প্রতিটি ঘরেই রয়েছে খাদ্য সংকট। কারো কারো ৩/৪টি বাচ্চাও রয়েছে। তাদের নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
গোয়ালন্দ রেল ষ্টেশনের দুই পাশে কয়েকশ বোর্ডি রয়েছে। এই বোর্ডিগুলোতেও যৌনকর্মীদের যাতায়াত ছিলো। করোনায় বোর্ডিগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। সারি, সারি বোর্ডিংগুলো বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। কেউ কেউ বোর্ডিংগুলো সংস্কার করছেন। দৌলতদিয়া পতিতালয় এবং এর আশে পাশের এলাকা এখন লোক সমাগম নেই বললেই চলে। এই এলাকা ঘিরে অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও একই অবস্থা।
অসহায় নারী ঐক্য সংগঠণের সাধারণ সম্পাদক মনি জানান, করোনার দ্বিতীয় ধাপের শুরুতে আমাদের অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভাপতি ঝুমুর পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নিকট থেকে দুই দফায় সাহায্য এনে দিয়েছিলেন। সভাপতি নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে বিধায় এখন আমরা কারো কাছ থেকে সাহায্য আনতে পারছি না, এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানও সাহায্যের ব্যাপারে এগিয়ে আসছে না। আমাদের মেয়েরা খেয়ে না খেয়ে অসহায়ের মত দিন কাটাচ্ছেন। করোনার কারণে আমাদের ব্যবসার দূর্দিন চলছে। প্রশাসন ও সাহায্য সংস্থার কাছে আমাদের জোর দাবি জানাচ্ছি আমাদের সাহায্য করুন।

দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীরা দিন কাটাচ্ছে অনাহারে-অর্ধাহারে
অসহায় নারী ঐক্য সংগঠণের সহ-সভাপতি আলেয়া জানান, এই পল্লীতে যেসব যৌন কর্মীরা আছে তাদের ২/৩টি করে বাচ্চা আছে। করোনার কারণে খরিদ্দার আসে না, টাকা পায়সাও নাই। এ কারণে তারা বাচ্চাদেও নিয়ে দূর্বিসহ জীবনযাপন করছে।
যৌনকর্মী বেবী, রমিচা, শিল্পী, নার্গিস, রতœা, টুনটুনি জানান, কঠোর লকডাউন ও করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে কোন খরিদ্দার ও সরকারী ও কোন বেসরকারী সংস্থার সহযোগিতা না থাকার কারণে তারা বিপদ্গ্রস্থ । যৌন কর্মীদের দাবি, সরকার সহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা যেন এই করোনার ভয়াল দু:সময়ে এগিয়ে আসে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply