ফরিদপুরে বিএনপি নেতা পরিচয়ে ব্যবসায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, গণপিটুনির ঘটনায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে বিএনপি নেতা পরিচয়ে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উল্টো এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কেবল ব্যবসায়ী বিজয় হাসান বাবুল এবং তাঁর ভাই মো. আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বিজয় হাসান বাবুল এবং তাঁর ছোট ভাই আক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রভাব খাটাচ্ছেন। গ্রামবাসীর দাবি, অন্য ব্যবসায়ীদের দেওয়া সংযোগ রাতের আঁধারে কেটে দিয়ে নিজেদের সংযোগ নিতে চাপ সৃষ্টি করা হতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে প্রায় ১০ বছর ধরে আসলাম শেখ নামে এক ব্যক্তি ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে দুই বছর আগে একই এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন আক্তার হোসেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ১৯ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রুস্তুম শেখের বাড়িতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে আক্তার হোসেনসহ কয়েকজন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তার কেটে দেন। এতে টিনের চালার ওপর তার পড়ে আশপাশের কয়েকটি ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে এবং নারী-পুরুষসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
এ সময় স্থানীয়দের চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে আক্তার হোসেনকে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার কয়েকদিন পর, ২৫ মার্চ আক্তার হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় সৌদি প্রবাসী সামসুল মোল্লা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিজাম উদ্দীনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। সামসুল মোল্লা দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে পরে গিয়েছিলেন, তবুও তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এতে তাঁর বিদেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, নিজাম উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংযোগ কেটে হয়রানির কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। ঘটনার দিন বিদ্যুতের তার কাটার ফলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজয় হাসান বাবুল বলেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাইকে মারধর করেছে। তিনি দাবি করেন, ওই রাতে লাইন কাটার ঘটনা ঘটেনি, বরং সংযোগ দিতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন তাঁর ভাই।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক নুর হোসেন জানান, ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। তার কাটাকাটি এবং বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনার জেরে ওই রাতে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত আক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
You cannot copy content of this page
Leave a Reply